সোমবার, মে ২৩, ২০২২

জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবির বদলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি

পর্দানশীন মহিলাদের পর্দার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও নাগরিক অধিকার প্রাপ্তির ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে রাজারবাগ দরবার শরীফের মহিলা আনজুমান।

তারা জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবির বদলে বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানান।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা আনজুমানের আলোচকরা পর্দানশীন মহিলাদের পর্দার সঙ্গে সকল রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিতের দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাজারবাগ দরবার শরীফের মহিলা আনজুমানের সদস্য ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক শারমিন ইয়াসমিন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজারবাগ দরবার শরীফের মহিলা আনজুমানের সদস্য সুমাইয়া আহমদ, মাশহুরা ফিরদাউসীসহ আরো শতাধিক পর্দানশীন মহিলা।

তিনি বলেন, শনাক্তকরণে ছবির ব্যর্থতায় তাই আধুনিক যুগে তাই বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হয়ে উঠেছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি।

প্রযুক্তি নির্ভর এ পদ্ধতিতে শনাক্তকরণ প্রায় শতভাগ নির্ভুল।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শনাক্তকরণে কখনই দুই ব্যক্তির মধ্যে মিল পাওয়া যায় না। বয়স বা শারীরিক অবস্থার সাথেও এই পদ্ধতিতে কোন তারতম্য ঘটে না।

উদাহরস্বরূপ, বায়োমেট্রিক পদ্ধতি, যেমন-ফিঙ্গারপ্রিন্ট সনাক্তকরণ নিয়ে বলা যায়, পৃথিবীতে যদি ৭০০ কোটি মানুষ থাকে, তবে একজনের সাথে অন্যজনের ফিঙ্গার প্রিন্ট কখনই মিলবে না।

এমনকি দুইজন জমজ ব্যক্তিরও ফিঙ্গারপ্রিন্টও হবে ভিন্ন। তাই আধুনিক যুগে অপরাধী শনান্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অধিক গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহারের সুবিধাও অনেক। একজন মানুষ কোথাও গেলে আইডি কার্ড ভুলে বাসায় ফেলে আসতে পারে, হারিয়েও ফেলতে পারে।

কিন্তু হাতের আঙ্গুল কখনই সে ফেলে আসে না বা হারিয়ে ফেলে না।

মূলতঃ ছবি দিয়ে শনাক্তকরণ পদ্ধতি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কারণেই “জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০”- এ ছবি দিয়ে শনাক্তকরণের বদলে বায়োমেট্রিক সনাক্তকরণকেই গ্রহণ করা হয়েছে।

তারপরও ছবির মত একটি পুরাতন ও ত্রুটিযুদ্ধ পদ্ধতি ধরে রাখার জন্য অসংখ্য পর্দানশীন মহিলা মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে, বঞ্চিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি থেকে, যা সত্যিই একটি অমানবিক বিষয়।

শারমিন ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশে অসংখ্য পর্দানশীন মহিলা আছেন, যারা পবিত্র কোরআন-সুন্নাহ অনুসারে পরিপূর্ণ পর্দা করার চেষ্টা করেন।

তারা কোন গায়েরে মাহরামকে চেহারা দেখান না। অথচ রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কাগজ করার সময় শনাক্ত করার জন্য চেহারা খুলে ছবি তুলতে হয় এবং গায়েরে মাহরাম পুরুষকে তার চেহারা দেখায় নিশ্চিত করতে হয়, এটি তার ছবি।

পর্দানশীন হওয়ায় এসব মহিলারা চেহারা খুলে ছবি তুলছেন না বা গায়েরে মাহরাম পুরুষকে চেহারা দেখাচ্ছেন না।

এতে তারা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ কোন সরকারী কাগজ তৈরি করতে পারছেন না এবং কোন নাগরিক অধিকারও লাভ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়ে উঠছে বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা মহিলা বা প্রবাসীদের স্ত্রীদের জন্য।

কারণ সামান্য সহযোগিতার জন্য তারা নিকটস্থ মাহরাম পুরুষকে কাছে পাচ্ছেন না।

এমন অবস্থায় সন্তান-সন্ততি নিয়ে জীবন ধারণ তাদের জন্য বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।

শারমিন ইয়াসমিন দাবি করেন, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরিতে শনাক্তকরণের নামে মহিলাদের ধর্ম পালনের অধিকার হরণ করা হচ্ছে, তাও একটি অযৌক্তিক কারণ অর্থাৎ চেহারার ছবি দেখে শনাক্তকরণ করতে।

অথচ পরিচয় শনাক্তকরণে ছবি নির্ভুল কোনো মাধ্যমই না। পৃথিবীতে দুই জন মানুষের চেহারা প্রাকৃতিকভাবেই এক রকম হতে পারে।

যেমন, দুই জমজ ভাই বা দুই জমজ বোনের চেহারা এক রকম হতে পারে।

আবার কৃত্তিম উপায়েও দুইজনের চেহারা এক রকম করা সম্ভব।

পাশাপাশি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একজন মানুষের চেহারায়ও ভিন্নতা আসতে পারে।

যেমন- বয়স, স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থার ভিন্নতার কারণে একজনের চেহারার ছবিতে অমিল লক্ষ্য করা যায়।

এসব কারণে শনাক্তকরণে নির্ভুলতার দণ্ডে ছবি অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

যুক্ত হউন

1,000FansLike
1,000FollowersFollow
100,000SubscribersSubscribe

সর্বশেষ খবর