মঙ্গলবার, জুন ২৮, ২০২২

ওমিক্রনে ভয় না পেয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ নিয়ে ভয় না পেয়ে সংক্রমণ প্রতিরাধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিদেশ ফেরতদের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ সব বন্দরে নজরদারি বাড়ানো ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করতে হবে।

তা না হলে গতবারের মতো ইতালি প্রবাসীদের মাধ্যমে যেভাবে দেশে করোনা ছড়িয়েছিল এবারও সেটাই ঘটতে পারে।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা দেওয়া করোনার ওমিক্রন ধরন সম্পর্কে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এসব কথা বলেন।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয়।

এটি গবেষণা পর্যায়ে থাকায় এর সংক্রমণের ক্ষমতা সম্পর্কে অনেকটাই অজানা।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওমিক্রনকে উদ্বেগজনক বা ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় টিকাগ্রহীতারাও এ ধরন দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে।

এরইমধ্যে হংকং, বেলজিয়াম ও ইসরাইলসহ বেশ কয়েকটি দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে।

এ ধরন নিয়ে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন- এটার সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়ায়।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মারাত্মক ধরনটি যেন কোনোভাবেই না ছড়ায় সে ব্যাপারে এখনই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ জন্য বিমানবন্দর বা অন্যপথে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কেউ যেন দেশে প্রবেশ করতে না সে পদক্ষেপও নেওয়া দরকার।

ডা. আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এ মুহূর্তে যেসব প্রবাসী দেশে আসতে চায় তাদের সাময়িকভাবে বিরত রাখতে হবে।

প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং অন্যসব দেশ থেকে আগতদের সঠিকভাবে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতে হবে।

প্রতি ১৪ দিনের আইসোলেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করতে হবে। একইভাবে নৌ ও স্থল বন্দরগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।

কারণ কার মাধ্যমে কীভাবে এটি ছড়াবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, প্রথমবার যখন দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে তখন অনেকে ভাইরাসটির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতেন না।

কিন্তু এখন চিকিৎসক, প্রশাসনসহ আমরা সবাই জানি। এজন্য এখনই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্ক থাকতে হবে।

বলা হচ্ছে নতুন ধরনটির টিকা প্রতিরোধী কিন্তু এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে।

সুতরাং এখনো যারা টিকা নেননি, তাদেরকে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি সারা দেশের মানুষকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে দেওয়া নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা মনিটরিং করতে হবে।

নতুন ধরনটি সম্পর্কে বিএমআরসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, নতুন ধরন মাত্র কয়েকটি দেশে ছড়িয়েছে।

তবে দ্রুত সংক্রমণশীল ধরনটি (ওমিক্রন) কোনোভাবেই যাতে বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এটি শনাক্ত হলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে- স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ধাপগুলো না মানলে বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না।

এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব না হলেও অবশ্যই সঠিক নিয়মে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া ও হ্যান্ড স্যানিটাইজের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানা তথা মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরিতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে।

রেডিও, টেলিভিশন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলো ‘আসুন আমরা মাস্ক পরি’ স্লোগান চালু করতে পারে।

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

যুক্ত হউন

1,000FansLike
1,000FollowersFollow
100,000SubscribersSubscribe

সর্বশেষ খবর