সিঙ্গার বাংলাদেশের ৯৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

শো-রুম, ওয়্যারহাউজের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে উপকরণ রেয়াত নিয়ে মাত্র চার মাসে ৯৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বহুজাতিক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড।

দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসলেও সম্প্রতি বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট) অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। পাওনা পরিশোধে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২৫ মে সাভারের গেণ্ডা ও রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় সিঙ্গারের দুটি ওয়্যারহাউজে তল্লাশি চালিয়ে কাগজপত্র জব্দ করেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

এসব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সিঙ্গারের শোরুম আছে ৪২৪টি। এর মধ্যে ১১০টি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় ভ্যাট নিবন্ধন নেয়া হয়েছে।

বাকি ৩১৪টি শোরুমের নিবন্ধন নেই। একইসঙ্গে পণ্য গুদামজাত করার কাজে ব্যবহৃত ১৯টি ওয়্যারহাউজেরও নিবন্ধন নেই।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য অনিবন্ধিত ওয়্যারহাউজে পাঠানো হতো। এর বিপরীতে সিঙ্গার বাংলাদেশ উপকরণ কর রেয়াত নিত।

যদিও অনিবন্ধিত ওয়্যারহাউজে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে রেয়াত নেয়ার সুযোগ নেই। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এভাবে ২৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকার রেয়াত নিয়েছে সিঙ্গার।

একইসঙ্গে ভ্যাট আইনে অনিবন্ধিত ও পরিবর্তিত স্থান থেকে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ আদায়ের বিধান রয়েছে।

যেহেতু সিঙ্গারের ওয়্যারহাউজ নিবন্ধিত নয়, সেহেতু ওয়্যারহাউজ থেকে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

সাভারের গেণ্ডা ও রাজফুলবাড়িয়া এলাকার ওয়্যারহাউজ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যথাক্রমে ৫৬ কোটি এবং ৩৬৩ কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়।

এর বিপরীতে ৬৩ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করা হয়নি।

এ বিষয়ে সিঙ্গার বাংলাদেশের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এলটিইউ ভ্যাট অযৌক্তিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।

আমরা নোটিশের জবাব প্রস্তুত করছি। সিঙ্গার কখনোই ট্যাক্স-ভ্যাট ফাঁকি দেয় না। গত বছর আমরা ২৫২ কোটি টাকা ভ্যাট দিয়েছি।

সব ওয়্যারহাউজ ও শোরুমের ভ্যাট নিবন্ধন নেই কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ বিষয়ে ভ্যাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ভালো বলতে পারবেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, অনিবন্ধিত হওয়া সত্ত্বেও আলোচ্য সময়ে সাভারের গেণ্ডা ও রাজফুলবাড়িয়া ওয়্যারহাউজের নামে পরিবহণ সেবার বিপরীতে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা কর রেয়াত নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিলের বিপরীতে রেয়াত নিয়েছে ৩ হাজার টাকা।

একইসঙ্গে স্থান-স্থাপনা ভাড়ার চুক্তির বিপরীতে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা উৎসে ভ্যাট পরিশোধ করেনি। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

সিঙ্গার বাংলাদেশের ভ্যাট অ্যান্ড কাস্টমস ম্যানেজার জয়ন্ত কুমার রয় বলেন, সিঙ্গারের সব শোরুম এবং ওয়্যারহাউজ দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের মতিঝিল বিভাগে নিবন্ধিত আছে।

এলটিইউ ভ্যাট থেকে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার পুরোটাই ভিত্তিহীন। তথ্যগত ঘাটতির কারণে এমনটি হতে পারে।

এলটিইউ-ভ্যাটের এক কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাট ফাঁকি অনুসন্ধানের পর সিঙ্গারের শোরুম ও ওয়্যারহাউজের কেন্দ্রীয় নিবন্ধন নিয়েছে। এর আগে নিবন্ধন ছিল না।

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

যুক্ত হউন

1,000FansLike
1,000FollowersFollow
100,000SubscribersSubscribe

সর্বশেষ খবর