বুধবার, অক্টোবর ২৭, ২০২১

হারানো টিয়ার সন্ধান পেতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ঢাকার গুলশান এলাকার দেয়ালে দেয়ালে একটা পোস্টার অনেকের নজর কেড়েছে। পোস্টারে একটা পাখির ছবি। ‘পাখি হারানো বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামের এই পোস্টারে উল্লেখ করা হয়, সন্ধানদাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।

পোস্টারটিতে আরো লেখা রয়েছে, ‘কিউই (টিয়া) পাখিটি নিজের নাম বলতে পারে’। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

পাখিটির মালিক ফাইজা ইব্রাহীমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুলশান-১ এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, পাখিটিকে কিউই নামে ডাকেন তিনি।

ফাইজা ইব্রাহীম বলেন, পোষা পাখিটি ছেড়ে দেয়া থাকতো। বাড়ির সবার প্রিয় হওয়ার কাঁধে কাঁধে ঘুরে বেড়াতো। রাতের বেলা শুধু খাঁচায় থাকে।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল নয়টার পর থেকে পাখিটা নিখোঁজ। যারা পাখি পালেন তারা জানেন যে পাখি হারিয়ে গেলে সেটা খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন।

পশু-পাখিপ্রেমিক ফাইজা বলেন, এই পাখিটি ছাড়াও তার কুকুর এবং বিড়াল আছে।

সান কন্যুর প্রজাতির এই টিয়া পাখিটি ২০১৮ সালে কেনেন ফাইজা। সান কন্যুরের পাখির জন্ম দক্ষিণ আমেরিকায়। এটি মূলত একটি কেজ বার্ড বা খাঁচায় পোষা পাখি।

বাংলাদেশে আমদানি করার পাশাপাশি অনেকেই প্রজনন করে বাচ্চা বিক্রি করেন।

ঢাকার একটি পোষা পাখির দোকান অ্যাংগ্রি বার্ডস-এ খোঁজ নিয়ে যানা যায়, পূর্ণবয়স্ক একজোড়া প্রজননক্ষম সান কন্যুরের দাম ৫০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে একটির দাম ২৫ হাজার টাকা।

প্রজননক্ষম না হলে প্রতিটি সান কন্যুরের দাম কুড়ি হাজার টাকা। আর নবজাতকের দাম ১২ হাজার টাকার মত।

তাহলে একটি পাখি খুঁজে দেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলেন কেন?

মিজ ইব্রাহিম বলছেন, ” তিনি জানান, এ নিয়ে ওই পাখিটা তৃতীয়বারের মত হারালো।

এ প্রসঙ্গে ফাইজা বলেন, ‘প্রথমবার যখন হারিয়ে গেছে তখন আমি পোস্টার দিয়েছিলাম। বাসার পাশেই কন্স্ট্রাকশনের কাজ চলছিল। তারা পেয়েছিল।

আমি তাদেরকে ১৪ হাজার টাকা দিয়েছি। দ্বিতীয়বারেও পোস্টার দিয়েছি। যারা পেয়েছিল তারা টাকা নিতে চায়নি। কিন্তু আমি উপহার দিয়েছি’।

তিনি বলেন, “আমার কাছে টাকার চেয়ে বড় হল পাখিটাকে পাওয়া। আমি টাকার অংকটাও বেশি দিয়েছি।

কারণ একটা মানুষ কষ্ট করে পাখি খুঁজে দেবে তার অবশ্যই পুরস্কার পাওয়া উচিৎ”।

এর মধ্যে তিনি অন্তত ৪০টা ফোন কল পেয়েছেন যারা পাখিটা খুঁজে দিতে চেয়েছেন।

‘তারা বলছেন টাকাটা তাদের দরকার। পাখি খুঁজে দিলে আমি আসলেই টাকা দেব কি না এটাও অনেকে জানতে চাচ্ছেন।

আমি তাদের কে নিশ্চয়তা দিয়েছি। আমি আসলে চিন্তায় আছি যে এই পাখিগুলো ওয়াইল্ডে (উম্মুক্ত পরিবেশে) বাঁচতে পারে না। তৃতীয়বারের মত আমি সৌভাগ্যবান হব কি না জানি না’।

আপনার জন্য নির্বাচিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আরও পড়ুন

যুক্ত হউন

0FansLike
22FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ খবর