একটি বেদনাদায়ক স্থান : যেখানে কেউ যেতে চায় না

Avatar
স্টাফ রিপোর্টার
5:24 pm, September 10, 2019

জীবদ্দশায় কেউ দেখেনি স্থানটি। শুধু শুনেছে যে, সে স্থানটি খুবই ভয়াবহ। শুধু ভয়াবহতার কথা শুনেই আস্তিক কিংবা নাস্তিক কেউ এ স্থানটিতে যেতে চায় না। যে স্থানটিকে না দেখে শুধু শুনেই যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে মানুষ। সে স্থানটি কত ভয়াবহ?

বলছি জাহান্নামের কথা। যেখানে কেউই যেতে চায় না। মানুষ কীভাবে এ জাহান্নামকে চিত্রায়িত করবে। কীভাবে কল্পনা কিংবা বর্ণনা করবে জাহান্নামের ইতিবৃত্ত কিংবা আদি-অন্ত।

বর্ণনা কিংবা ইতিবৃত্ত জানা বা দেখার আগেই কেউই এ বেদনায়দায়ক স্থানে যেতে চায় না। জাহান্নাম এমন এক স্থান, যেখানে মানুষের জানার বাইরেও অনেক শাস্তি ও যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে।

মানুষ ব্যাথ্যা, কষ্ট, নির্যাতন ও ক্ষতির সঙ্গে পরিচিত। কিন্তু জাহান্নামের ব্যাথ্যা, ক্ষতি, কষ্ট কিংবা নির্যাতন দুনিয়ার মতো নয়। আবার এসবের অনুসঙ্গ হাতিয়ার ও কার্যকারীতাও দুনিয়ার মতো নয়।

দুনিয়াতে মানুষকে নির্যাতন করা হলে কিংবা কষ্ট দিলে মারা যায়। কিন্তু সেখানের ব্যাথ্যা, কষ্ট, নির্যাতন যতই বেশিই হোক না কেন। কষ্ট দেয়ার অনুসঙ্গ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, মানুষ সেসব কষ্ট-নির্যাতনে মৃত্যু বরণ করবে না।

এ কারণেই মানুষ জাহান্নামের ভয়াবহতা তথা আজাব থেকে বেঁচে থাকতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। মানুষ তার সব চাহিদার কথা আলাদা আলাদাভাবে আল্লাহ কাছে তুলে ধরে আর শেষে সব আবেদনের সঙ্গে জাহান্নাম কিংবা পরকালের আজাব থেকে মুক্তি লাভে আবেদনটি জুড়ে দেয়। জাহান্নাম কিংবা পরকালের কষ্ট কেউ পেতে চায় না কিংবা কেউ জাহান্নামে যেতে চায় না।

কারণ কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে জাহান্নামকে খুবই শক্তিশালী এবং ভয়ংকর হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জাহান্নামের আজাব এবং শাস্তির কথা ২ মিনিটে বলে শেষ করা যাবে না। যে ব্যাথা খুবই মারাত্মক।

জাহান্নামের আগুন ও আজাব
জাহান্নামের আগুণের ব্যাথ্যা কখনো শেষ হয় না। যাকে বলা হয় ব্যাথ্যার পর ব্যাথ্যা, যন্ত্রণার পর যন্ত্রণা। অনবরত ব্যাথ্যা ও যন্ত্রণা।

জাহান্নামের নির্যাতনে চিৎকার, দুঃখ, হতাশা, উদ্বেগ, ভয়, আঘাত, ব্যাথ্যা, ক্ষতি এত ব্যাপক আকার ধারণ করবে যে, মানুষ নিজেকে হত্যা (আত্মহত্যা) করতে চাইবে, কিন্তু সেখানে তা করতেও সামথ্য হবে না।
সেখানে জাহান্নামিরা মরে যাওয়াকে (মৃত্যুকে) ভালোবাসবে, সেখানে মানুষ তাতেও অব্যাহতি পাবে না।
হায় আফসোস! হায় আফসোস! হায় আফসোস! জাহান্নামিদের এ অবস্থা শেষ হবে না। তা চলতেই থাকবে।

মানুষ জাহান্নাম সম্পর্কে এ সামান্য বর্ণনা শুণেই হৃদয়ে আঘাত অনুভব করে। খুব বেশি ভয় পায়। এ বেদনাদায়ক স্থানে কেউ যেতে চায় না।

মানুষ জাহান্নাম দেখেনি, জাহান্নামের ঘ্রানও পায়নি কিংবা জাহান্নামের গর্জনও শুনেনি। তাহলে শুধু বর্ণনা শুনেই কেন ভয় পাচ্ছে কিংবা খরাপ লাগছে?

জাহান্নামের বর্ণনা শুনে অন্য কারো জন্য এ খারাপ লাগা নয় বরং নিজের জন্যই খারাপ লাগছে। কেননা কেউই জানে না কে জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি পাবে। সুতরাং মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা-
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জাহান্নামের এ ভয়াবহতা ও আজাব থেকে রক্ষা করুন। সুন্দর ও অনাবিল শান্তির স্থান জান্নাত দান করুন। আর সব সময় আল্লাহর কাছে এ দোয়া করুন-
اَللَّهُمَّ اَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ وَ اَجْرِنَا مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আদখিলনাল জান্নাতা ওয়া আঝরিনা মিনান নার।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে বেহেশত দান করুন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাতও ওয়া ক্বিনা আঝাবান নার।’
অর্থ : হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।’ আমিন।

মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here