সন্তানকে চরিত্রবান বানাবেন যেভাবে

প্রতিটি মা-বাবাই চান নিজের সন্তানকে সুচরিত্রবান, আদর্শবান ও নীতিবান করে গড়ে তুলতে। এজন্য প্রচেষ্টার কমতিও থাকে না। শিক্ষাদীক্ষা ও নীতিকথা শুনিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান সবাই। তারপরও অসৎ পথে পা বাড়ায় আমাদের সন্তানরা। কিছুটা বুঝে, কিছুটা না বুঝেই। নিচে সন্তানকে আদর্শবান ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করা হলো। মেনে চলতে পারলে সফলতা পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

১. সুসন্তানের জন্য একজন সৎ ও ভালো মেয়েকে বিয়ে করতে হবে। ভালো নারীর গর্ভেই ভালো সন্তানের আশা বেশি করা যায়।
২. বাবা-মা উভয়কেই হালাল খাবার গ্রহণ করতে হবে। কেননা হারাম খদ্য থেকে সৃষ্ট বীর্যের মধ্যে খারাপ প্রভাব হতে পারে। আর তা থেকে সৃষ্ট সন্তানের মধ্যেও সেই প্রভাব থেকে যাওয়া স্বাভাবিক।
৩. সহবাসের সময় সহবাসের আদব তথা নীরব স্থানে করা, দোয়া করা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ রাখতে হবে।
৪. বেশি বেশি এ দোয়া পড়তে হবেÑ ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে নিজ অনুগ্রহে পবিত্র বংশধর দান কর, অব্যশই তুমি দোয়া শ্রবণকারী।’
৫. সন্তান গর্ভে আসার পর মায়ের চিন্তাভাবনা, মায়ের মনমানসিকতা ও মায়ের আচার-আচরণ সবকিছুর প্রভাব পড়ে গর্ভস্থ সন্তানের ওপর। তাই সন্তান গর্ভে আসার পর মাকে সব ধরনের কুচিন্তা পরিহার করতে হবে এবং নেক ও ভালো চিন্তাভাবনা রাখতে হবে।
৬. সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তাকে গোসল করিয়ে তার ডান কানে আজানের শব্দগুলো এবং বাম কানে ইকামতের শব্দগুলো শুনাবে। এতে শুরু থেকেই তার মনে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুলের নাম ও কালেমা-ইবাদতের সুপ্রভাব পড়বে।
৭. নবাগত শিশুর সুন্দর অর্থবোধক একটি নাম রাখতে হবে।
৮. শিশুকে সুশিক্ষা প্রদান করতে হবে।
৯. শিশুকে প্রয়োজনীয় শাসন করতে হবে।
১০. কিছুটা বুঝমান হওয়ার পর থেকেই পদে পদে শিশুকে আদব-কায়দা শিক্ষা দিতে হবে। অন্যায়মূলক কিছু করলে সংশোধন করে দিতে হবে।
১১. সাত বছর বয়স থেকেই শিশুকে নামাজের হুকুম দিতে হবে এবং পুরুষ ছেলে হলে জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত করাতে হবে। ১০ বছর বয়সে প্রয়োজনে মারধর করে হলেও নামাজ পড়াতে হবে। উল্লেখ্য, শিশুর নামাজ-রোজা ইত্যাদি ইবাদত ও আখলাক-চরিত্র গঠনের ব্যাপারে মাকেই বেশি খেয়াল রাখতে হয়। কেননা তার কাছেই সন্তানরা বেশি সময় কাটায়।
১২. প্রতিদিন একটি নির্ধারিত সময়ে বাসায় ইসলামি কথাবার্তা আলোচনা বা ধর্মীয় কিতাব তালিমের নিয়ম জারি করতে হবে। এতে সন্তানের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও উপকার হবে।
১৩. শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবেÑ খারাপ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যেন সন্তানের সম্পর্ক গড়ে না ওঠে।
১৪. সন্তানদের মুসলমানদের সঙ্গে, বিশষ করে গরিব সৎ মুসলমানদের সঙ্গে ওঠবস করতে অভ্যস্ত করাতে হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.

shares