স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আমরা কি কি সুবিধা পাচ্ছি?

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণের সমস্ত প্রক্রিয়া সময়মত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম অথবা শেষ সপ্তাহে আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি ভারত থেকে উৎক্ষেপিত সাউথ এশিয়ান স্যাটেলাইটে প্রাপ্ত সুবিধা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর চুক্তি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস কোম্পানির হাতে। তবে নির্মাণ শেষে এটি উৎক্ষেপণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স কোম্পানি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফলে বাংলাদেশ শুধু অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ব স্যাটেলাইট ক্লাবেই প্রবেশ করবে না; একই সঙ্গে বিশ্বের নানা প্রান্তের ছবি তোলা, আবহাওয়ার চিত্র, স্যাটেলাইট টিভি দেখতে বেতার তরঙ্গ পরিচালনাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ঘুরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষের পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরেই এটি উৎক্ষেপণের ব্যাপারে প্রস্তুতির কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের আগে কয়েকটি পরীক্ষা করা হবে জানিয়ে তারানা বলেন, “ইনিশিয়াল পারফরমেন্স টেস্ট, ফরমাল ভ্যাকুয়াম টেস্ট, ফাইনাল পারফরমেন্স টেস্ট, ফাইনাল প্রিপারেশন টেস্ট করার পরে উৎক্ষেপণের জন্য শিপমেন্ট করা হবে।”

উৎক্ষেপণের বিষয়টি আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, “‍কোন রকম সমস্যা হলে আমরা হয়ত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যেতে পারি।ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লোরিডার আবহাওয়া ঠিক থাকলে সমস্যা হবে না।”

নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এখন প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা শেষ হলেই এটি পুরো প্রস্তুত হবে উৎক্ষেপণের জন্য। স্যাটেলাইটটির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হবে আগামী বছরের জুন থেকে।

প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ১৫ বছর। এরপর ক্রমান্বয়ে আরো দুটি স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজে হাত দেবে বাংলাদেশ।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *