,

সেনা মোতায়েনে ইসির ঘোষণা, শঙ্কাই ঠিক হলো : রিজভী

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা নিয়ে বিএনপির শঙ্কাই সত্যি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার জন্য যা যা করার দরকার আওয়ামী লীগ তাই করবে। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বানচালও করে দিতে পারে তারা। সেই কারণে আমরা গতকাল দলের পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েনের দাবি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দাবির ঘণ্টা খানেক পরেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের দিনের ৫ দিন আগে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিলো নির্বাচন কমিশন। আমাদের আশঙ্কাই ঠিক হলো, এই সময়ের মধ্যে তাঁরা নির্বাচনী মাঠ বিরান ভূমিতে পরিণত করবে আওয়ামী চেতনায় সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা।’

গতকাল বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করে রিজভী জানিয়েছিলেন, তারা খবর পেয়েছেন সেনা মোতায়েনের তারিখ পেছানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তাই গতকাল থেকেই তিনি সেনা মোতায়েনের দাবি তুলেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ঘোষণা করা হয়, ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনা মোতায়েন করা হবে।

এই ঘটনার সূত্রেই রিজভী এসব কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ডেকে এনে নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করার পরিকল্পনা করা হবে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, আইজিপি সব ডিআইজি ও এসপিদেরকে ঢাকায় তলব করেছেন। বিএনপির আড়াই লাখ নেতাকর্মীদের একটি তালিকা করেছে পুলিশ। ডিআইজি এবং এসপিদের সঙ্গে বৈঠকের পর চিরুনী অভিযান চালিয়ে ওইসব নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচনী মাঠ ফাঁকা করা হবে। মূলত শত বাধা বিপত্তি গ্রেপ্তার হামলা উপেক্ষা করে চারিদিকে ধানের শীষের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে থামিয়ে দিতেই এই অভিযানের পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ।’

অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রমাণসহ তথ্য আছে, গত ১০ ডিসেম্বর সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতাদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদেরকে মাঠে নামাতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একটি পর্যায়ে তারা নিজেরাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকদের ওপর হামলা চালাবে। প্রয়োজনে বড় ধরনের নাশকতাও করতে পারে। পরে এসব হামলা ও নাশকতার দায়ভার চাপাবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ওপর।’

রিজভী বলেন, ‘সারাদেশে আওয়াজ উঠেছে নৌকাডুবির। এখন পতনের ক্ষণগণনা চলছে। তাই পলায়নপর সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছে ক্ষমতা এবার হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী ভোটের মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সচিব এই মন্তব্য করেন। সচিব বলেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১০ দিন মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।

ভোটের মাঠে বিজিবি কবে থেকে নামবে এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, বিজিবির মাঠে নামা নিয়ে আমরা প্রস্তাব রেখেছি আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে। তবে কমিশনের কেউ কেউ বলছেন ২০ ডিসেম্বর, কেউ আবার বলেছেন ১৫ ডিসেম্বর থেকে। আসলে বিজিবি কবে থেকে মাঠে নামবে তা আগামী শনিবার ঠিক করবে কমিশন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


     এই ধরনের আরো...