সারাক্ষণ মোবাইল ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে যে ক্ষতি

যেদিকে দুচোখ যায়, বনে বাদাড়ে, পাহাড়ে, গ্রামে, শহরে, নগরে, মানুষ এখন নিজের মাথাটি ঠেসে ধরে থাকেন মোবাইল ফোন স্ক্রিনে। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে জানা যায়, ২৫-৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই রাতে শুতে যাওয়ার সময় বালিশের পাশে মোবাইল ফোন রাখেন। আর ঘুম যতক্ষণ না আসছে ততক্ষণ চোখকে রাখেন মোবাইলের নীল পর্দায়। চলুন জেনে নেই মোবাইল ফোনের পর্দায় চোখ রাখলে যেসব ক্ষতি হতে পারে।

১. ঠিক মতো ঘুম না হলে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। এছাড়াও মস্তিষ্ক সম্পর্কিত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

২. মোবাইল ফোনের নীল আলো শরীরে মেলাটনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে ঘুম আসতে চায়। কারণ আমাদের ঘুম কতটা ভাল হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে মেলাটনিন হরমোনের ক্ষরণের উপর।

৩. অন্ধকারে অনেক সময় ধরে মোবাইল টিপলে তার নীল আলো সরাসরি চোখের উপর পড়তে থাকে। যে কারণে চোখে যন্ত্রণা হতে পারে। আর দীর্ঘদিন ধরে এরকম হলে কমে যাবে আপনার মূল্যবান দৃষ্টিশক্তি।

৪. মোবাইল ফোনের নীল আলো রেটিনার কর্মক্ষমতা কমাতে শুরু করে। যেটা থেকে আপনি স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।

৫. মোবাইলের নীল আলোর কারণে শুধু মেলাটনিন হরমোন নয়, সেই সঙ্গে আরও সব হরমোন ক্ষরণে ও বাঁধা দেয়। ফলে, শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে, যা থেকে ক্যানসার বিশেষত ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।

মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় তাই মেনে চলুন কিছু নির্দেশনা-
ক. সাধারণত ৬-৭ ইঞ্চি চোখ থেকে দূরে রেখে মোবাইল ব্যবহার করা হয়, চোখে বিরাট ক্ষতি হয়। চেষ্টা করুন নিজের চোখ থেকে ১২-১৫ ইঞ্চি দুরে রেখে ফোন ব্যবহার করতে।

খ. ফোনের আলো খুব কম বা বেশি দুটোতেই ক্ষতি। যেমন আলোর মধ্যে আপনি রয়েছেন সেই অনুযায়ী ফোনের ব্রাইটনেস সেট করুন। দিনের আলোতে থাকলে ব্রাইটনেস একটু বেশি ও অন্ধকারে ব্রাইটনেস কম চোখের জন্য ভাল।

গ. খুব বেশি দাগ ধরা স্ক্রিনে বেশিক্ষণ চেয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *