লাইফ-স্টাইল

শিশুর দাঁতের যত্নে জেনে রাখুন

নবজাতক শিশু, যাদের দাঁত এখনো ওঠেনি তাদেরও যত্নের প্রয়োজন আছে। আবার খুব ছোট শিশু, যার দাঁত পড়ে যাবে কিছুদিন পরই, তারও দাঁতের যত্নের প্রয়োজন আছে।

এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু শিশুর দাঁতের যত্নের তথ্য।
৬ মাস কৌটার দুধ নয়
শিশুর জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের বুকের দুধই একমাত্র আদর্শ খাদ্য, এটা সবাই জানেন। অনেক মা শিশুকে ফিডারে কৌটার দুধ, কখনো স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি মিশিয়ে দিয়ে থাকেন। এটা শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য তো খারাপই, দাঁতের জন্যও খারাপ। এতে নতুন দুধদাঁতেও ক্যারিজ বা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শিশুর মজবুত দাঁত গড়তে সহায়ক।

দাঁত না থাকলেও নবজাতক শিশুর মুখ ও মাড়ি পরিষ্কার রাখা উচিত। তাই রাতে বুকের দুধ খাওয়ানো শেষ হলে পাতলা ফ্লানেলের কাপড় অথবা তুলা দিয়ে দাঁতের ওপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করে দিন।

এছাড়া দাঁত না থাকলেও নবজাতক শিশুর মুখ ও মাড়ি পরিষ্কার রাখা উচিত| দুধদাঁত সুস্থ ও সুরক্ষিত না হলে পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলোতেও সমস্যা হতে পারে|

যখন দাঁত উঠছে
সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে শিশুর মুখে দাঁত গজাতে শুরু করে।

সে তখন যা কিছু সামনে পায় সেটাই কামড়াতে চায়। তাই এই সময় শিশুর হাতের কাছে বিষাক্ত বা ধারালো কোনো দ্রব্য, নোংরা জিনিস বা ওষুধপত্র রাখা উচিত নয়।
কামড়ানোর জন্য বাজারে কিছু সামগ্রী পাওয়া যায়, তা শিশুর হাতে দেওয়া যায়। কিন্তু খেয়াল রাখুন, যেন তা পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকে। দাঁত ওঠার সময় শিশুর হাতে শক্ত বিস্কুটজাতীয় কিছু দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন কিছু দেবেন না যা গিলে ফেললে তার গলায় আটকে যেতে পারে।

দাঁত ব্রাশ
শিশুকাল থেকেই দাঁত ব্রাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন। মা সকালে ও রাতে শিশুর সামনেই দাঁত ব্রাশ করবেন। শিশুরা খুব অনুকরণপ্রিয়। তাই শিশুর হাতে দাঁত ওঠার শুরুতেই একটা ব্রাশ দেওয়া ভালো।

একটু বড় হলে শিশুকে হাতে ধরিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা শিক্ষা দিতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখুন শিশুদের টুথ ব্রাশটি যেন নরম শলাকার তৈরি হয়।

শিশু যদি টুথপেস্ট খেয়ে ফেলে তাহলে তা কিছুদিন দেওয়ার দরকার নেই। একটু বড় হলে তখন শিশুদের উপযোগী ব্রাশ ও টুথপেস্ট বাজারে পাওয়া যায়। সেগুলো দিন।

দুধদাঁতের যত্ন নিন
শিশুর দুধদাঁত কখনো কখনো ১১ বছর বয়স পর্যন্ত মুখে অবস্থান করে। অনেকের ধারণা এই দাঁত তো পড়ে যাবে, তাই এর যত্নের দরকার নেই। কিন্তু তা যদি সুস্থ ও সুরক্ষিত না থাকে পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলোতেও সমস্যা হতে পারে।

দুধদাঁতের শিকড়ে প্রদাহ অনেক দিন স্থায়ী থাকলে স্থায়ী দাঁতের ক্ষতি হয়। দুধদাঁত পড়া ও স্থায়ী দাঁত ওঠার সময়ে শিশুর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। নয়তো স্থায়ী দাঁতগুলো আঁকাবাঁকা বা অসমানভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

One Reply to “শিশুর দাঁতের যত্নে জেনে রাখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *