মুরিদের কাণ্ড; ‘লাশ স্বর্ণ হবে’, তাই টেবিলের নিচে

৩০ বছর বয়সী এক নারীর লাশ ছিল তার ঘরের পড়ার টেবিলের নিচে। হাত ও পা ভাঙা। তিনি ওই লাশটিকে গোসল করান, তেল দিয়ে যত্ন করেন। তার দাবি, ওই লাশটি সংরক্ষণ করলে তা স্বর্ণে পরিণত হবে! এ কাণ্ড করা ব্যক্তির নাম হাবিবুর রহমান মোল্লা (৩৫)। ‘গায়েবি শব্দ’ শুনে এসব কাজ করেন বলে দাবি তাঁর।

হাবিবুরের পড়ার টেবিলের নিচে কম্বলে প্যাঁচানো অবস্থায় ওই লাশ পাওয়া যায়। আজ মঙ্গলবার পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। তবে ওই লাশের পরিচয় জানা যায়নি।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বোলতলী ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। হাবিবুর রহমান ওই এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। পুলিশ তাঁকে আটক করেছে।

হাবিবুর পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি শরীয়তপুরের খওজ খেজি নড়িয়া সুরেশ্বর মাজারের মুরিদ।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, মাওয়াঘাট থেকে কয়েকদিন আগে ওই লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন হাবিবুর রহমান। ওই নারীর বাম হাতের কব্জি, দুই পা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ওই মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওই লাশ কীভাবে পেয়েছেন বা মৃত্যুর কারণ কী এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি হাবিবুর। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানান ওসি আনিচুর।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাবিবুর জানান, উলঙ্গ অবস্থায় ওই নারীর লাশ বাসায় আনা হয়। এ সময় আধ্যাত্মিক গায়েবি শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘দেহটি পদ্মা মায়ের। পরে পদ্মার পানিতে গোসল করানো হয়। তারপর সারা দেহে তেল দেওয়া হয়।’ তিনি আরো জানান, দেহটির সামনে সিজদা করেন এবং এ সময় গায়েবি শব্দ শুনতে পান যে মৃতদেহটি সংরক্ষণ করলে তা স্বর্ণে রূপান্তর হবে।

লৌহজং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মাকসুদা লিমা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, লাশটি দুই-একদিন আগের। এ ছাড়া হাত-পা ভাঙা; তবে কোথাও কোনো দাগ নেই লাশের শরীরে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *