মুগ ডাল খেলে কি হয়?

উদ্ভিজ্জ আমিষের অন্যতম উৎস হলো ডাল। গমের দ্বিগুণ এবং মেশিনে ছাঁটা চালের প্রায় চার গুণ বেশি আমিষ ডালে থাকে। যেকোনো ধরনের এক ছটাক ডালে যে পরিমাণ আমিষ থাকে তা এক ছটাক মাংসের আমিষের সমান, এক ছটাক ডিমের আমিষের দ্বিগুণ এবং এক ছটাক দুধের আমিষের প্রায় সাত গুণ!

বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে সাধারণ জনগণের সাধ্যের নাগালে মাছ-মাংস, সেখানে অল্প খরচে ডাল থেকেই অধিকাংশ আমিষের অভাব পূরণ করা যেতে পারে। ডালের মধ্যে মুগ ডালে রয়েছে নানান পুষ্টিগুণ। একাধিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই যে প্রোটিন, ফাইবার, ফলেট, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি১, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি৫, বি৬ এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এই ডালটি নিয়মিত খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টো একাধিক উপকার পাওয়া যায়।

১. মুখের ভেতরের সমস্যা দূরে থাকে

মুগ ডালে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম এবং আরও সব উপকারি উপাদান মুখের ভেতরের যেকোনো সমস্যা দূর করে।

২. চুলের সৌন্দর্য বাড়ে

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মুগ ডাল খেলে শরীরের ভেতরে কপারের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। যার ফলে চুল পড়ার হার কমে। আর অন্যদিকে চুলের সৌন্দর্যও বাড়ে চোখে পরার মতো।

৩. হার্ট ভালো রাখে

আজকাল হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাটা বাড়ছে। কম বয়সীদেরও অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়ার প্রয়োজনও বেড়েছে। কারণ এই ডালে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার একদিকে যেমন রক্তচাপকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে, তেমনি শরীরে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর মধ্যে দিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে মুগ ডালের পেস্ট ভালো কাজ করে। এজন্য মুগ ডাল বেটে নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর সেই পেস্ট ভালো করে মুখে লাগান। এমনটা প্রতিদিন করলে ত্বকের ভেতরে ভিটামিন এবং খনিজের ঘাটতি দূর হয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য ফিরতে সময় লাগে না। আর যদি একান্তই ফেস প্যাকটি বানাতে সময় না পান, তাহলে নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন ত্বক ধীরে ধীরে খুব সুন্দর হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে বলিরেখাও কমতে থাকবে। ফলে ত্বক হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত!

৫. রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে

যেসব রোগের কারণে ২১ শতকের পৃথিবীতে সব থেকে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটছে, তার মধ্যে অন্যতম হল ডায়াবেটিস। আমাদের দেশেও এই রোগের প্রভাব ব্যাপক। তাই তো চিকিৎসকেরা ছোট থেকে বড় সবাইকেই মুগ ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, মুগ ডাল খেলে রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তাই তো যাদের পরিবারে এই রোগ রয়েছে, তাদের বেশি করে মুগ ডাল খাওয়া উচিত।

৬.পেট ভালো রাখে

বাঙালি ভোজন প্রিয় জাতি! যেকোনো উৎসব, মেহমানদারি মানেই রকমারি খাবারের সমাহার। আর বিভিন্ন খাবার খেলে বদ হজম হয়। সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে গ্যাস্টিকের সমস্যাও দেখা দেয়। প্রতিদিন মুগ ডাল খেলে এ সব সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন। আসলে এই ডালে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান, শরীরে প্রবেশ করার পর বিশেষ ধরনের কিছু ফ্যাটি অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়, যা পাকস্থলির কর্মক্ষমতা এতটা বাড়িয়ে দেয় যে বদ-হজম এবং গ্যাস্টিকের মতো সমস্যা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

৭. হাড় মজবুত হয়

অনেকেই ভাবতে পারেন ডাল খেলে কীবভাবে হাড় মজবুত হয়। অবাক করার মতো হলেও এটা সত্য। আর কেনই বা হবে না বলুন! মুগ ডালে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। আর এই খনিজটি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই বুড়ো বয়সে যদি কোমর এবং হাঁটুর যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে না চান, তাহলে এখন থেকেই নিয়মিত মুগ ডাল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।

৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

মুগ ডাল খাওয়া মাত্র কলেকসিস্টোকিনিন নামক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনটির উৎপাদন যত বাড়তে থাকে, তত ক্ষুধা কমতে থাকে। তখন মনে হয় যেন পেটটা অনেক ভরে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খাওয়ার পরিমাণ কমতে থাকে। আর খাবার কম খেত খেতে ওজনও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *