মায়ের ডায়েরি

ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি মা মাঝে মাঝে ডায়েরিতে মোটা একটা খাতায় কি যেনো লিখে রাখেন। কখনো মা তার খাতাটি পড়তে দিতেন না। খাতাটি নিয়ে সব সময় কেমন যেন লুকোচুরি ভাব। সে সময়ে আবার আমি তিন গোয়েন্দা বই পড়ে নিজেকে গোয়েন্দা ভাবতে শুরু করছি। তাই উঠে পড়ে লাগলাম মায়ের গোপন খাতার রহস্য উদঘাটনে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখলাম মা কোথায় রাখেন তার ডাইরিটা রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে তখন চুপিচুপি মায়ের লুকানো ডায়েরিটা বের করলাম। রহস্য উদ্ধারের উত্তেজনায় রীতিমত নাচতে শুরু করছি আমি।

প্রথম পাতা খুলে তো আমার চক্ষু চড়ক গাছ। প্রথম পাতাতেই আমাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ,আমার গোয়েন্দা বাবু ,আমি আগে থেকেই জানতাম তুমি আমার খাতাটা খুলবে। তাই আমি আগে থেকেই সরিয়ে অন্য একটা খাতা রেখে দিয়েছি, হা হা হা!
জীবনের প্রথম গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে? তাহলে দেখো বাবু-সোনা ,তোমার মা কত বড় গোয়েন্দা। শার্লক হোমসের মতো তোমার চোখ মুখের হাবভাব দেখে বুঝে গেলাম।তুমি আমার ডায়েরি খুজবে। ছোটবেলা থেকে আমি ও গোয়েন্দা বইয়ের পোকা। শোনো,না বলে কখনো কারো ডায়েরি ধরতে হয় না। ডায়েরিতে আমি প্রতিদিনের ঘটনা গুলো লিখে রাখি। এমনকি তোমার দুষ্টু মিষ্টি স্মৃতি গুলো লিখে রাখি। আমি যখন আকাশের তারা হয়ে যাব তখন আমার ডায়েরী টা পড়বে। আর আমাকে মনে করবে। সময় হলে আমি আমার ডায়েরী টা তোমার হাতে তুলে দেব।

ইতি
তোমার গোয়েন্দা মা।

চিঠিটা পড়ে দরজার দিকে তাকাতেই আবার চমকে গেলাম। দেখি দরজায় দাঁড়িয়ে মা হেসে হেসে বলছেন, গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে ধরা খেলিতো আমার হাতে ।
এখনো ঘটনা টা মনে পড়লে হাসি পায়। মা আর বেঁচে নেই, বেঁচে আছে তার আদরে মাখা স্মৃতিগুলো আর ডায়রিটার প্রতিটি পাতা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments