মানুষকে দাসে পরিণত করছে সরকার: ইমরান

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে জনগণের স্বাধীনতা হরণের কালো আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল চারটায় শাহবাগে প্রতিরোধ সমাবেশ ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার জনগণকে তার দাসে পরিণত করতে চাচ্ছে। জনগণের কষ্টের উপার্জন আত্মসাৎ করে নিজেদের আখের গোছানো আর জনগণের মুখ বন্ধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে নতুন কালা কানুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘এই আইনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের সকলেরই অবশ্যকর্তব্য। ৫৭ ধারায় এর আগে মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানুষকে সরকারের দাসে পরিণত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের মুখে হঠকারী ৫৭ ধারা থেকে সরকার যেমন পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল, তেমনি আমাদের প্রতিরোধেই নস্যাৎ হবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র।’

কাল শুক্রবার, বিকেল চারটায় শাহবাগের প্রতিরোধ সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইমরান এইচ সরকার।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দুর্নীতি আর অনিয়ম করতে বেগ পেতে হচ্ছিল সরকারি আমলা আর সাংসদ-মন্ত্রীদের। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতির প্রমাণ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে এবং মিডিয়ায় রেকর্ড করে প্রকাশ করায় লুটপাটে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল দুর্নীতিবাজদের। নিজেদের আখের গোছানোর পথ সুগম করতে তাই তৈরি হয়েছে নতুন কালা কানুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোনো সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কেউ কোনো কিছু রেকর্ড করলে, তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কলম, সামাজিক মাধ্যমে সচেতন নাগরিকের প্রতিক্রিয়াকে বন্ধ করতে এর চেয়ে নির্লজ্জ প্রচেষ্টা আর কী হতে পারে! আপনার চোখের সামনে ঘুষ আদান-প্রদান হবে, জনগণের টাকা মেরে দেওয়া হবে, আপনি প্রতিবাদ করতে পারবেন না। আপনি ভিডিও করলেই ১৪ বছরের জেল, ২০ লাখ টাকা জরিমানা!’

দুর্নীতির প্রতিবাদ করলেই আপনি গুপ্তচর, দেশদ্রোহী! সাংবাদিকেরা দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দিতে পারবেন না, কোনো অনুসন্ধানী রিপোর্ট হবে না, চোখের সামনে অন্যায়–অনিয়ম হবে, আপনাকে সব দেখেও চুপ করে থাকতে হবে!

সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার সব রাস্তাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সচেতন নাগরিকদের বানানো হচ্ছে গুপ্তচর! এর চেয়ে ঘৃণ্য আইন আর কী হতে পারে!

-প্রথম আলো

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *