বিশ্বের সেরা ১১ দেশের সামরিক শক্তি

সাধারণভাবে ধরা হয়, কোনও রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পরাক্রমের উপরে সে দেশের সামরিক সমৃদ্ধি নির্ভর করে। এই প্রতিবেদনে এমন ১১টি দেশের সামরিক বাহিনীর শক্তির কথা কাউন্টডাউনের ধারায় তুলে ধরা হল:

১১. ইজরায়েল:
সামরিক ক্ষমতায় ইজরায়েল বরাবরই বাদবাকি দুনিয়ার সমীহ আদায় করেছে। আন্দাজমতো এই মুহূর্তে তাদের ভাঁড়ারে রয়েছে ৮০ থেকে ১০০টি পরমাণু অস্ত্র। পাশাপাশি প্রায় চার হাজার সাঁজোয়া গাড়ি সহ ট্যাঙ্ক বাহিনী রয়েছে ইজরায়েলের। যুদ্ধ ও বোমারু বিমান রয়েছে ৬৮০টি। ইরানের মতো ইজরায়েলেও সব নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

১০. জাপান:

সিনজো আবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে জাপান সরকার তাদের বাজেটে ৫ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ করছে প্রতিরক্ষা খাতে। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রায় দেড় হাজার জঙ্গি ও বোমারু বিমান রয়েছে জাপানের শস্ত্রাগারে৷সেইসঙ্গে রয়েছে চোস্ত বিমানচালক। দাই নিপ্পনের নৌবহরে আপাতত সদাপ্রস্তুত ১৬টি সাবমেরিনও।

৯. দক্ষিণ কোরিয়া:

শান্তভাব, অথচ দৃঢ়তাই কোরীয় উপদ্বীপবাসীর বৈশিষ্ট্য। তাই ঢাক না পেটালেও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমশ শক্তিবৃদ্ধি কিন্তু অনেকেরই আজ মাথাব্যথার কারণ। প্রতি বছর তাদের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ হয় ৩৪০০ কোটি ডলার। গণতান্ত্রিক দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনীতে রয়েছে ৬ লক্ষ ৪০ হাজার সক্রিয় ফৌজি। ভুললে চলবে না তাদের ২৩০০ ট্যাঙ্ক ও ১৪০০ যুদ্ধ ও বোমারু বিমানের কথাও।

৮. তুরস্ক: 

চার লক্ষ সেনা রয়েছে এই দেশের বাহিনীতে। সঙ্গে ট্যাঙ্ক সহ সাড়ে তিন হাজার সাঁজোয়া গাড়ি ও হাজার লড়াকু বিমান।

৭. জার্মানি:

বাজেটে প্রতি বছর ৪৫০০ কোটি ডলার এমনি এমনি বরাদ্দ করে না জার্মান সরকার। এখন অন্তত ২ লক্ষ সেনা রয়েছে জার্মান আর্মিতে। সঙ্গে রয়েছে ৭০০ ফাইটার জেটও৷ শক্তির নিরিখে গত বছর নয় নম্বরে থাকা জার্মান সেনাবাহিনী বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এই মুহূর্তে সাত নম্বরে উঠে এসেছে।

৬. ফ্রান্স: 

৩০০ পরমাণু অস্ত্র ও অন্তত আড়াই লক্ষ পদাতির বলে বলীয়ান ফ্রান্স এখন বিশ্বে সামরিক শক্তির নিরিখে একটু নেমে গিয়েছে। চার থেকে তারা দুই ধাপ নেমে আপাতত ছয় নম্বরে৷ ফ্রান্সের বিমানবহরে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি যুদ্ধ ও বোমারু বিমান।

৫. ব্রিটেন: 

সুপার-পাওয়ার না হলেও সেমি-সুপার বললে খুব একটা ভুল হবে না। ব্রিটেনের ভাঁড়ারে রয়েছে দুশোটি পরমাণু অস্ত্র, যা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে পরিণত করেছে বিশ্বের পঞ্চম শক্তিশালী বাহিনীতে। সামরিক দিক থেকে তাদের বিমানের সংখ্যা ৯০৮টি। সংখ্যায় কম হলেও আর্মির যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণিত।

৪. ভারত: 

সামরিক শক্তির বিচারে ভারত এখন বিশ্বের মধ্যে চার নম্বরে। প্রায় ১৩ লক্ষ পদাতিক বাহিনী, শতাধিক পরমাণু হাতিয়ার ও সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি যুদ্ধ ও বোমারু বিমান ভারতকে সুরক্ষিত রেখেছে।

৩. চিন:

আড়াইশোর বেশি পরমাণু অস্ত্র ও প্রতি বছর বাজেটে বরাদ্দ হওয়া প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার চিনা সেনাবাহিনীকে করে তুলেছে বিশ্বের তিন নম্বর। বর্তমানে তাদের লক্ষ বিশ্বের দুই নম্বর হওয়া৷ পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা ২৩ লক্ষ।

২. রাশিয়া: 

এই তালিকায় অল্পের জন্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাশিয়া। তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা শুনলে ঘাবড়ে যেতে পারেন। অন্তত সাড়ে আট হাজার। রাশিয়া তাদের সামরিক ক্ষমতার বহর না দেখালেও গোটা দুনিয়া জানে রাশিয়ার সামরিক সামর্থ্যের গৌরবময় কীর্তির কথা। ১৫ হাজার ট্যাঙ্ক নিয়ে স্থলযুদ্ধে এখনও দুর্দান্ত ক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষমতা ধরে রাশিয়া।

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: 

সাড়ে সাত হাজার পরমাণু অস্ত্র এবং ১৩ হাজার ৬৮৩টি যুদ্ধ ও বোমারু বিমান নিয়ে বরাবরের মতো এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। প্রতি বছর প্রতিরক্ষা খাতে তাদের জন্য বরাদ্দ ৬১ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *