লাইফ-স্টাইল

বিরক্তিকর ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে মেনে চলুন ঘরোয়া কিছু নিয়ম

গরমকাল পড়লেই একগাদা সমস্যা হঠাত্‌ করে এসে হাজির হয়। ব্রণ -র সমস্যা, গরমে ঘেমে নাজেহাল হওয়ার সমস্যা, মেকআপ গলে পানি হওয়ার সমস্যা প্রভৃতি প্রভৃতি। তবে গরমে যে সমস্যা সবথেকে বেশি সমস্যা দেয়, তা বোধহয় ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যা। বহু মানুষের মধ্যে ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দেয়। আর এর জন্য শুধু সেই ব্যক্তিই নন, আশেপাশের অনেকেই সমস্যায় পড়েন। রাস্তা-ঘাট, ট্রেন, বাস, বাড়িতেও ঘামের দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে যান চেনা পরিচিত, অপরিচিত থেকে কাছের মানুষ প্রত্যেকে। কিন্তু এর থেকে মুক্তির উপায় কোথায়?

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তো ব্যবহার করা হয়ই। এর সঙ্গে আয়ুর্বেদিক কিছু নিয়ম মেনে চললে ঘামের দুর্গন্ধ দূর হবে অনেকটাই।

১. দুই টেবিল চামচ ধনেপাতা দুই কাপ পানিতে জ্বাল দিতে থাকুন। পানি এক কাপের মতো হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার ঠান্ডা করে এই পানিটুকু খেয়ে নিন।

২. একইভাবে পুদিনাপাতা-সেদ্ধ পানি খেলেও ঘামের দুর্গন্ধ দূর হবে।

৩. এক কাপ পানিতে আধা চা চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। এই পানিটুকু সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন।

৪. তেজপাতাও ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে। তেজপাতা আধঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার ভালো করে বেটে পেস্ট করে নিন। গোসলের আগে শরীরের যেসব জায়গায় ঘাম বেশি হয়, সেখানে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

৫. লেবুর রস মেশানো পানিতে গোসল করলে ঘামের দুর্গন্ধ কিছুটা হলেও কমবে।

৬. অ্যালোভেরার শাঁস ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করে। টানা এক মাস প্রতিদিন এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরার শাঁস খেলে শরীরে ঘামের গন্ধ কমে যায়।

৭. ঘর থেকে বের হওয়ার আগে রসুন দিয়ে রান্না করা কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো। রসুন ঘামের কটু গন্ধ ছড়ায়।

৮. আপেল সিডার ভিনেগারে ব্যাকটেরিয়া দূর করার উপাদান রয়েছে। এটি ত্বকের পিএইচের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সামান্য আপেল সিডার ভিনেগার তুলায় নিয়ে বগলের নিচে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন গোসল করার আগে এই উপাদানটি বগলের নিচে ব্যবহার করুন।

৯ .বেকিং সোডা ঘাম দূর করতে সাহায্য করে। বেকিং সোডা ও পানি একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। বগলের নিচে এবং শরীরের যে অংশে ঘাম বেশি হয়, সেখানে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার গোসল করে ফেলুন।

১০. গোসল করে পোশাক পরার আগে শরীরটাকে ভালো করে হাওয়ায় শুকিয়ে নিন। ভেজা শরীরে কখনওই পোশাক পরবেন না। ভেজা শরীরে পোশাক পরলে, বেশি ঘাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১১. আপনি স্লিভলেস পোশাক পরুন অথবা না পরুন, অবশ্যই শরীরের অবাঞ্ছিত রোমগুলি নির্মূল করুন। শরীরে অবাঞ্ছিত রোম ঘামের জন্ম দেয়, এবং তা থেকেই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

১২. গোসলের সময়ে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান শরীর থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করে। যদি আপনার ত্বকে অ্যালার্জি কিংবা ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে, তাহলে সাবান পছন্দের সময়ে অবশ্যই চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন।

১৩. অনেক সময়ে আমাদের খাদ্যাভাসের কারণেও ঘামের দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। তেল-ভাজা-মশলা দেওয়া খাবার শরীরে ঘাম উত্‌পাদন করে। ঘামের হাত থেকে রক্ষা পেতে এধরণের খাবার যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন।

১৪. নাইলন কিংবা সিন্থেটিকের পোশাক একেবারেই পরবেন না। এতে ঘাম আটকে থাকে। সুতির হালকা পোশাক পরুন। সুতির পোশাক ঘাম টেনে নিয়ে শরীরকে শুকনো রাখে। জুতো পরার সময়েও সুতির মোজা পরুন।

১৫. শুধু ডিওডোরেন্ট ব্যবহারেই ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দেয় না। তার সঙ্গে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্য়বহার করুন।

১৬. ভিনিগার আমাদের শরীরের pH level সঠিক রাখতে এবং ত্বকে তৈরি বিভিন্ন সমস্যাও প্রতিরোধ করে। শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ কমানোর জন্য ভিনিগার অন্যতম সঠিক উপাদান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *