বাবা প্লীজ আমার সর্বনাশ কইরোনা!

-বাবা প্লীজ আমার সর্বনাশ কইরোনা !

-চুপ কর তো মাথায় রক্ত উইঠা গেছে, নিজের ঘরে একপিস মাল আর আমি ফুর্তির যায়গা পাইনা !

-আমি তোমার পায়ে পড়ি বাবা আমাকে ছাইড়া দাও প্লীজ বাবা প্লীজ।

-আমিও তোর পায়ে পড়ি বেশী সময় নিমুনা বাঁধা দিসনা !

এভাবে জোরাজুরি করতে করতে অশুরের শক্তির একটা জানোয়ার পিতার কামনায় রক্তাক্ত হয় একটা মেয়ে।
চ্যানেল ২৪ এর শব্দ প্রকৌশলী সুমন তার সৎ মেয়েকে এভাবেই শপ্তম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় কোনো এক ভর দুপুরে ধর্ষণ করে।
মেয়ের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে যার দ্বারা পরবর্তীতে হুমকি দিয়ে ৮ বছর ধরে মেয়েটিকে মাঝেমধ্যেই ভোগ করতো সুমন।
২০১৫ সালে পেটে বাচ্চা এলে এবোরশন করার মাধ্যমে বাচ্চা ফেলে দেয় সুমন।
মেয়েটি তার মায়ের প্রথম বিবাহের সন্তান তাই সুমন তাকে এভাবে ভোগ করার আগে একবারও ভাবেনি।
অবশ্য এখানে মেয়ের মায়ের কিছু একটা করার ছিলো কিন্তু তার কোনো ভূমিকাই নেই !
রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় তাহলে এদেশে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কিভাবে !
ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে ‘পাড়া পড়শি খালা, আল্লা বলে চালা !’
নিজের রক্তের না হলেও নিজের স্ত্রীর মেয়ে তো, তার পরেও বিক্তৃত মস্তিষ্কের এই সুমন কিভাবে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করতে পারলো বুঝিনা।
বিয়ের পর যদি বউ কিংবা স্বামীর বাবা মাকে বাবা মা ভাবা যায় তাহলে সন্তানকে নয় কেন !
আজ আমি এটা লিখতাম না কারণ এদেশে ধর্ষনের ব্যাপারে লিখে লাভ নেই। প্রতিনিয়ত খবরের হেডলাইনে কোনো না কোনো নারীর সম্ভ্রম হারানোর গল্প থাকেই তাই এখন আর খারাপ লাগেনা।
বেশী না, দেশের কয়েক জায়গায় যদি এখন আরবের মত সাজা কার্যকর করা হয় অর্থাৎ পাব্লিক প্লেসে ফাঁসি, সুইসাইড স্কুয়ডে নিয়ে জনসম্মুখে গুলি করে হত্যা অথবা সবার সামনে পাথর মেরে হত্যা, এছাড়া যৌনাঙ্গ কেটে হাতে ধরিয়ে দিয়ে কিছুক্ষণ পর জনতার হাতে তুলে দিয়ে আমৃত্যু পিটিয়ে হত্যা করার মত সাজা দেয়া যায় তাহলে এদেশে ধর্ষণ ৯৫% কমে যাবে।
এদেশে এমন বিচার কখনো করা হবে বলে মনে হয়না।
ধর্ষকদের বেশীরভাগকেই ধরতে পারেনা প্রশাসন তারপর আবার বিচার কাজ চলে ৫ বছর ধরে !
এরপর সাজা হিসেবে ৩ বছরের জেল আর ১ লাখ টাকা জরিমানা।
৮ বছর পরেই জানোয়ারটা আবার বাহিরে চলে আসে।
এ কেমন বিচার??

ধর্ষণই মানা যায়না তারপর আবার তা যদি বাবা করে তাহলে ভাবতেই মাথা নীচু হয় এটা ভেবে যে, আমিও একদিন বাবা হব।
হুমায়ূন স্যারের বানীটা আসলেই সত্যি কিনা জানিনা “পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ আছে কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই”
বানীটা সত্যি কিন্তু কিছু কুকুরের জন্য আর তা সত্যি রইলোনা !

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *