বাচ্চাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে কী খাওয়াবেন?

অনেক অভিভাবকেরই অভিযোগ, সন্তান একদমই মনযোগী না পড়ালেখায়। মনোযোগ বাড়াতে বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন অনেকেই। যেহেতু মনোযোগ নেই তাই পড়া মনেও রাখতে পারেনা। রেজাল্টও খারাপ হয়। অথচ স্কুলের অনেক বাচ্চাই মন দিয়ে পড়ালেখা করে এবং ভালো রেজাল্ট করে। কোনো কিছুরই তো কমতি রাখছেন না, তবু কেন এমন সমস্যা হচ্ছে?

ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটের একটি ফিচারে লেখক এস আর করিম জানিয়েছেন সন্তানের অমনোযোগিতার পেছনের কারণ সম্পর্কে। জানিয়েছেন কোন খাবার খেলে মনোযোগিতা বাড়ানো সম্ভব সেই সম্পর্কেও। তার মতে, জন্মের পর থেকেই সন্তানের মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হতে থাকে। বিশ্বব্যাপী পুষ্টিবিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, মস্তিষ্কের এই উন্নয়ন এবং বৃদ্ধি পুষ্টির উপর নির্ভর করে। শিশু-বিশেষজ্ঞরাও বলেন, পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার বাচ্চাদের মনোযোগ, স্মৃতি এবং মানসিক ক্ষমতার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছে দিতে পারে। ছোটবেলা থেকেই পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়লে, শিশুদের মাঝে সঠিকভাবে শেখার এবং আচরণের ভিত্তি স্থাপন করা সহজ হয়। জেনে নিন কোন খাবারগুলো বাচ্চাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে সেই সম্পর্কে।

ডিম: ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রচুর প্রোটিন। প্রোটিন পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে। তাই স্কুল শেষে বাসায় ফেরার পরে নাস্তা হিসেবে ডিম দেয়া যেতে পারে। তাহলে সন্ধ্যায় পড়ার সময় ক্লান্তি লাগবে না।

দই: দইতে আছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি, উপকারী ব্যাকটেরিয়াএবং ভালো ফ্যাট। অনেক শিশুই দুধ খেতে চায়না। আবার কারও কারও দুধ পেটেও সয় না। এক্ষেত্রে সন্তানকে দই খেতে দিন। দইয়ের পুষ্টি উপাদানগুলো মনোযোগ বাড়াতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সামুদ্রিক মাছ: মস্তিষ্কের মনোযোগ শক্তি বাড়াতে সামুদ্রিক মাছের তুলনা নেই। । সামুদ্রিক মাছে আছে ভিটামিন ডি এবং ওমেগা ৩ -যা মানসিক দক্ষতা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। সপ্তাহে কমপক্ষে তিন-চার দিন বাচ্চাদেরকে সামুদ্রিক মাছ খেতে দিন। মাছ খেতে না চাইলে মাছের কাবাব, চিপস বা ফিস বলের মতো সুস্বাদু খাবার তৈরি করে দিন।

বাদাম: বাদামে আছে প্রোটিন, ফ্যাটি অ্যাসিড, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ভিটামিন-এ, বি, সি ইত্যাদি। তাই বাচ্চাদের বিকালের নাস্তায় কিংবা টিফিনে বাদাম হতে পারে আদর্শ খাবার। নিয়মিত বাদাম খেলে সন্তানের পড়াশোনার মনোযোগ বাড়বে।

আপেল: আপেলে আছে শর্করা, ভিটামিন, খনিজ লবণ, আঁশ, পেকটিন ও ম্যালিক এসিড। বাচ্চাদের নাস্তা হিসেবে তাই আপেল খুবই উপকারী। আপেলে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। ফলে সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। —

ইউনিসেফ বাংলাদেশ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *