,

ফেসবুকে নতুন ভোটারদের উচ্ছাস!

মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও অনেক নতুন ও পুরান ভোটারের ফেসবুকে ভোট দেয়ার ছবি আপলোড করতে দেখা যায় এবং ভোট দেয়ার আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। নতুন ভোটারদের উচ্ছাস প্রকাশ ছিলো চোখে দেখার মতো।

আঙ্গুলে ভোটের কালি দেয়া ছবি দিয়ে প্রকাশ করছেন নানা অনুভূতি, কেউ নিজেদের সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অপরদের ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে বলছেন। অনেক ভোটার দলবেধে ভোট দিতে যাওয়ার ও ভোট দেয়ার ছবি দিচ্ছেন। পোস্টে চলছে কমেন্টের পাল্টা কমেন্টও।

বিপ্লব চন্দ্র লিখেন, ভোট দেয়া আমার অধিকার, আমার ভোটে নির্বাচিত দল নিশ্চই আমার তথা দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবে না ।

ভোটারদের উৎসমূখর ভোট দেয়ার সাথে সাথে কেউ আবার প্রকাশ করেছেন ভোট দেয়ার বিড়ম্বনার কথাও। তেমনি ফ্লোরা সরকার এই ভোট দেয়াকে ‘ভোট যুদ্ধ’ উল্লেখ করে লিখেন- সকাল সকাল মনের আনন্দে ভোট কেন্দ্রে যাবার জন্য আম্মাকে তাড়া দিয়ে রওনা হলাম একসঙ্গে। এবার বাড়ি বাড়ি যেয়ে ভোটার নম্বর দিয়ে আসা হয় নাই খুব বেশি। আমিও পাইনি। তবু ভেবেছিলাম, আইডি কার্ড দিয়ে হয়তো কাজ সারতে পারবো। কিন্তু কেন্দ্রে যেয়ে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো ! ভোটার বা সিরিয়াল নম্বর ছাড়া ভোটই দিতে পারবনা ! এখন এই নম্বর কোত্থেকে পাবো? কেউ বলে, ১০৫ এ এসএমএস করেন, কেউ বলে, ওখানে লম্বা তালিকা আছে, ওখানে আপনার নাম খুঁজে নেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে, ওখানে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে প্রায় দুই ঘণ্টা চলে গেল।

এসএমএসের উত্তর নেই, তালিকায় নাম নেই। শেষে ভাবলাম ভোটটা বোধহয় আর দিতেই পারবোনা। কিন্তু, আমি তো ভোট না দিয়ে বাসায় যাব না। হঠাৎ একটা জায়গায় দেখি, কিছু অল্প বয়সী ছোকরারা কি যেন কাজ করছে। দেখলাম, ম্যাজিকের মতো, সবার ভোটার নম্বর বের করে দিচ্ছে। অনুরোধ করতেই, আমার আর আম্মার নম্বরটা বের করে দিল। মনে হলো, নম্বর তো না, যেন রিপোর্ট কার্ড হাতে পেলাম। এক দৌড়ে ভোটটা দিয়ে আসলাম। ভোট দিলাম ঠিকই, কিন্তু, আক্ষরিক অর্থেই ভোট যুদ্ধ করে দিয়ে আসলাম।

সিরাজাম তিশা একজন নতুন ভোটার, তিন বোন একসাথে ভোট দিয়ে নিজেদের সুনাগরিক ঘোষণা করেন।

বাবা-ছেলে একসাথে ভোট দিয়েছেন, আর সেটা যদি সন্তানের হয় প্রথম ভোট, তার আনন্দ সীমাহীন। সেই আনন্দ ও উচ্ছাসের কথা জানিয়েছেন এক বাবা। বদিউর রহমান লিখেন, আমি ও ছেলে ভোট দিলাম ঢাকা আইডিয়াল কলেজে, শান্ত পরিবেশে নির্ভিঘ্নে ভোট দান; ছেলের জীবনের প্রথম ভোট। এই পোস্টের নিচে আবার অনেকে তাদের অভিনন্দন জানায়।

এদিকে তাহনিম আফরোজ রুনা ও আশরাফুল আলম খোকন দম্পতি একসাথে ভোট দেয়ার ছবি দিয়ে তাদের আনন্দ প্রকাশ করেন। রুনা লিখেন, নাগরিকত্বের প্রকাশ! আমরা ভোট দিয়েছি!

তানজিনা আলম আঙ্গুলে ভোটের কালি দেয়া ছবি দিয়ে তিনি লিখেন, যান এবং ভোট দিন, এটা একটি বিরল সুযোগ যা পাঁচ বছর পরে আসে।

সাদিয়া আফরিন তন্বী ভোট দিয়ে লিখেন, দেশের উন্নয়নে অংশ নিয়েই ফেললাম।

নতুন ভোটারদের আনন্দ প্রকাশ সবচেয়ে বেশি। তারা দলবেধে প্রথমবার ভোট দেয়ার ছবি দিয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন। রুবাইয়্যা নিটল লিখেন, জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে রাস্ট্রীয় কর্তব্য পালন করলাম।

এভাবে ভোটাররা ভোট সম্পর্কে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন। বিভিন্ন পেশার শ্রেণি বিভিন্ন দলের সমর্থক হয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


     এই ধরনের আরো...