‘প্লিজ প্রাইম মিনিস্টার, মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন’

‘প্লিজ প্রাইম মিনিস্টার, মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন’

বরেণ্য ভাস্কর মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নানান জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। তার চিকিৎসার ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। বরেণ্য এই মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তার পরিবার।

হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস, কিডনি জটিলতা ও পায়ের সমস্যা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বর্তমানে চিকিৎসাধীন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।

রোববার সন্ধ্যায় মেডিকেলের কেবিনের সামনে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ছেলে তূর্য কাজী এবং মেয়ে ফুলেশ্বরীর সঙ্গে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, মায়ের চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

তারা বলেন, ইতিমধ্যে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে যেটুকু চিকিৎসা হয়েছে, সেটার বিল পরিশোধও করতে পারেনি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর পরিবার। একজন মন্ত্রী তা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপর ল্যাব এইড থেকে এনে বিএসএমএমইউ-তে চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

তূর্য কাজী বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে আমরা কেপাবল (সামর্থবান) নই, উই আর নট সাউন্ড (আমরা তেমন অবস্থাপন্ন নই)। এই রোগীটাকে আমরা কতদিন চালিয়ে নিতে পারব তা জানি না। সবচেয়ে বড় কথা- বাড়িতে আমি আর আমার মা আর্নিং সোর্স (উপার্জনক্ষম)। মা এখন অফ (পারছেন না)। আমি যেটুকু সাপোর্ট দিতে পারতাম তা এখন চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। এই খরচটা আসলে একজন বহন করতে পারবে না, রাষ্ট্র ছাড়া এটা পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘মায়ের পায়ে জরুরি অপারেশন লাগবে তিন সপ্তাহের মধ্যে। তা না হলে পায়ে পঁচন ধরবে। তিন সপ্তাহের পর হলে হবে না। আবার এখন অপারেশন করলে তিনি এনেস্থেশিয়া নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রচণ্ড ঝুঁকি আছে। তিনি আর ব্যাক (মৃত্যুমুখ থেকে ফিরতে) নাও করতে পারেন। ডাক্তাররা মনে করছেন, তার এমন একটা অপারেশনের পর যে সাপোর্ট দরকার তা বিদেশেই সম্ভব।’

বরেণ্য এই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে আপনারা ল্যাব এইড থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে যান। ওখানে অনেক মিরাকল (বিস্ময়কর ঘটনা) ঘটে। আমিও মনে করি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে অনেক অনেক ভালো ট্রিটমেন্ট (চিকিৎসা) হতে পারে।’

সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সহায়তা বা দায়িত্ব সরকার নিয়েছে কিনা তা আমরা এখনো আসলে ক্লিয়ার (পরিষ্কার) না। অর্থের অভাব আছে, সাংঘাতিকরকম অভাব আছে। রোগীর যে অবস্থা তাতে ডাক্তাররা সাজেস্ট করেছিলেন (পরামর্শ দিয়েছিলেন) বাইরে নিয়ে যেতে। বাট, উই আর নট কেপাবল (কিন্তু আমাদের সামর্থ নেই)।’

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ছেলে বলেন, ‘মায়ের শারীরিক যে অবস্থা, তাতে তার চিকিৎসা দেশে না বিদেশে হবে সেই সিদ্ধান্ত এখন আর তার একার সিদ্ধান্তে হওয়ার নয়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের তেমন কোনো জমিজমা নেই, বিশেষ করে এমন কিছুই নেই যে এটা বিক্রি করে চিকিৎসা চালিয়ে নেব। ফাইনেনসিয়াল সাপোর্ট (আর্থিক সহায়তা) দরকার অবশ্যই। খুবই দরকার। আমার ক্ষমতা থাকলে আমি তাকে নিয়েই যেতাম বাইরে। আমার ক্ষমতা নেই। রোগীর চয়েজের (পছন্দের) ওপর তো নির্ভর করার সুযোগ নেই, যেখানে ডাক্তাররা বলছেন বাইরে নিয়ে যেতে।’

তূর্য কাজী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা যারা ফাইনেনসিয়ালি ক্রাইসিসে আছি আমাদের তো কোথাও চাওয়ার জায়গা নেই। একটাই উপায়- প্রাইম মিনিস্টারের (প্রধানমন্ত্রী) কাছে অ্যাপিল (আবেদন) করতে পারি। এটাতো রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিতে হবে।’

‘প্রাইম মিনিস্টার, আমিতো আপনার কাছে পৌঁছাতে পারি না। আমি শুধু আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে বলতে পারি- প্লিজ প্রাইম মিনিস্টার, মায়ের সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন’ যোগ করেন তিনি।

এসময় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মেয়ে ফুলেশ্বরী বলেন, ‘যে মা তার সন্তানের মতো গাছ ভালো বাসতেন, সে মা দুটো দিন বাসায় থেকে তার গাছগুলোর দিকে, তার ভাস্কর্যের দিকে একপলক তাকাননি। আমার মনে হয়, এই সময়ে এসে তার ফেলে আসা সারাজীবনের স্ট্রাগল (সংগ্রাম) তার সামনে ভেসে উঠছে। এখন তিনি আসলে কথা বলার মতো অবস্থাতেও নেই।’

তবে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসক দলের একজন সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘ব্যক্তিত্ব ও দেশপ্রেম নিয়ে এই অবস্থাতেও ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মতো টিকে থাকা মানুষের বিদেশে চিকিৎসা শুধু তার ইচ্ছার উপরই আটকে আছে। এমনকি তিনি কষ্ট পেতে পারেন ভেবে ল্যাব এইড হাসপাতালের বিলটিও যে একজন মন্ত্রী পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন, সেটিও তাকে জানানো হয়নি।’

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর চিকিৎসার বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) আহ্বায়ক শাহরিয়ার কবীর, কাজী মুকুল, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের এ আরাফাতসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন।

তবে তূর্য কাজী প্রতিবেদকে বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন আমরাও সেভাবে শুনেছি যে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।’

Sharing is caring!

Comments

comments

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *