জাতীয় 

প্লিজ, আমার মেয়েটাকে এত নিচে নামাবেন না আপনারা’

অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নামের যে তরুণীর আত্মহত্যাকে ঢাকায় ব্লু হোয়েলের প্রথম শিকার বলে ধারণা করা হয়েছে তাকে নিছক ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন মেয়েটির পরিবার।

তারা বলছেন, স্বর্ণার মৃত্যু আত্মহত্যাই, তবে এর কারণ ব্লু হোয়েল নয়, বরং অন্য কিছু। তবে শুধুমাত্র একটি ভ্রান্ত ধারণার উপর ভিত্তি করেই, কোনো রকম যাচাই বাছাই ছাড়া গণমাধ্যমের কেউ কেউ একে সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দিয়েছেন। এমনকি তাদের সঙ্গে যাচাই করার প্রয়োজনও বোধ করেননি গণমাধ্যমের কর্মীরা। বিষয়টি ইতোমধ্যে বেশ কিছু গণমাধ্যম বেশ দাবির সঙ্গেই প্রচার করেছে। তাই অনেকেই আতঙ্কিত হয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। অথচ স্বর্ণার মৃত্যুর পরপরই তাকে নিয়ে প্রচুর তামাশা আর গুজবের সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিষয়টি নজরে আসায় স্বর্ণার পিসি কেয়া চৌধুরী জুই তার ফেসবুক একাউন্টে এর একটি লিখিত প্রতিবাদ করেছেন। নিচে সেটি হুবুহু তুলে দেয়া হলো-

ফেসবুকে একটা নিউজ খুব ভাইরাল হয়েছে গত তিনদিন ধরে। চমকদার শিরোনাম আর তার সাথে লাল টিপ পরা একটা ফুটফুটে মেয়ের ছবি, যার নাম অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা। বলা হচ্ছে মেয়েটি ব্লু হোয়েল গেইমের ভিক্টিম; তারই জের ধরে সে নাকি গত বৃহস্পতিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপূর্ণিমার রাতে (৫ অক্টোবর) ঝুলে পড়েছে তার পড়ার ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে। একটি নিখুঁত সুইসাইড।

লোকজন তাই এখন তার ফেইসবুক প্রোফাইল খুঁজে বের করে সেখানে যা ইচ্ছে তাই লিখছে। বাদ যাচ্ছে না ঠাট্টা-তামাশা, ইয়ার্কি। ওই ফুটফুটে ১৪ বছর বয়েসী বাচ্চাটা আমার ভাতিজি। সবে কথা বলতে শিখল যখন, এই টুক টুক করে হেঁটে বেড়াত আমার পিছু পিছু। বলতো- ‘বাবুপিসী, আমাকে এমন করে ঝুঁটি করে দাও, ঠিক যেন মোরগঝুঁটি’। মেয়ের আমার খুব গোছানো কথা সেই ছোটবেলা থেকেই।

বাবুপিসী, আমায় ছবি এঁকে দাও, আচ্ছা বাবুপিসী, পিরামিড কি? বাবুপিসী…বাবুপিসী…বাবুপিসী…. এইভাবে আমায় “বাবুপিসী” ডেকে আর কোন আবদার কেউ কখনো করবে না। বাচ্চাটাকে আমি নিজের হাতে শেষ স্নান করিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিতায় উঠিয়ে দিয়ে এসেছি। যাই হোক, এটা স্মৃতিচারণ নয়। আসল কথায় আসি-

আমি নিজের হাতে মেয়েটাকে শেষ স্নান করিয়েছি। ওর গায়ে সামান্য কোন কাঁটা-ছেঁড়ার দাগও ছিল না, ছিল না কোন ট্যাটু। ওর ফোন ঘেঁটেও পাই নি এমন কোন প্রমাণ যার জের ধরে বলা যায় ও ব্লু হোয়েল খেলতে শুরু করেছিল। যে কথাটা আজ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে, সে কথাটা নিতান্তই অবান্তর। ভুলটা আসলে আমারই। আমিই সর্বপ্রথম এরকম অমূলক সন্দেহটা করি। কিন্তু সবকিছু দেখে-শুনে বুঝতে পারি যে, সন্দেহটা একদমই ভিত্তিহীন।

প্লিজ, আমার মেয়েটাকে এত নিচে নামাবেন না আপনারা। যা খুশি তাই বলার অধিকার আপনাদের কারো নেই। এই অবান্তর খবর এবং আতঙ্ক ছড়াবেন না প্লিজ। ওর আত্মহত্যার পেছনের কারণটা আর যাই হোক, ব্লু হোয়েল নয়। আমার দুঃখিনী মেয়েটাকে অন্তত এবার একটু শান্তিতে থাকতে দিন।

Sharing is caring!

Comments

comments

Related posts

Leave a Comment