প্রিয়তমা স্ত্রীর আকর্ষণীয় ছবিগুলো ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন?

নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে বন্ধুদের মাঝে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করাকে, তাঁর সুন্দর চাহনিগুলোকে পাবলিক পিকচার বানানোকে যে স্বামী বাহাদুরি মনে করে – আল্লাহ্‌ তাঁর জন্য জান্নাত হারাম করেছেন ! হোক সে আপনার বউ, তারপরও তাকে পরপুরুষদের (গায়ের মাহরাম) মনোরঞ্জনের উপলক্ষ্য বানিয়ে তাঁর মর্যাদাকে ধুলিধূসরিত করার অধিকার আল্লাহ্‌ আপনাকে দেন নি। শুধু তাকে না, কোন নারীকেই বেপর্দা করার অধিকার মহান আল্লাহ্‌ কাউকে দেন নি।

স্বামীর জন্যই যদি হারাম হয়, তাহলে বেগানা নারীদের সাথে আপনার দাঁত কেলানো ফেসবুকীয় ছবি হালাল হয় ক্যামনে? আপলোড দেয়ার আগে একটু ভেবে নিন – কি ভয়ঙ্কর গুনাহ করছেন। আর যে নারী নিজেই নিজের পবিত্রতাকে শুলে চড়িয়ে ফেসবুকীয় কিছু সস্তা এপ্রিসিয়েশন এর লোভে শয়তানের ফাঁদে পা দিয়েছে, তাঁর পরিণতি তো বলাই বাহুল্য।

বাকি থাকলো – লাইক, কমেন্ট দেয়া আমজনতা। ইসলামে পর্দা কেবল নারীর জন্য না, পুরুষের জন্যও। নারী যেহেতু নিজেই নিজেকে উন্মুক্ত করেছে অতএব আপনার মজা নিতে বাঁধা নেই, এপ্রিশিয়েট করতে বাঁধা নেই – এই বেহুদা যুক্তি আপনার রবের সামনে কিন্তু সেদিন দিতে পারবেন না। আপনার প্রতিটি লাইক, প্রতিটা মনভরানো কমেন্ট – এর হিসাব আপনাকে দিতে হবে। আপনি এতে শুধু নিজের পর্দাই লঙ্ঘন করছেন না, বরং শয়তানের দোসর হিসেবেই কাজ করছেন।

📖{{সূরা যিলযাল আয়াত নং-6}}📖

يَوْمَئِذٍ يَصْدُرُ النَّاسُ أَشْتَاتًا لِّيُرَوْا أَعْمٰلَهُمْ

সেদিন মানুষ বিক্ষিপ্তভাবে বের হয়ে আসবে যাতে দেখানো যায় তাদেরকে তাদের নিজদের কৃতকর্ম।

সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে [১], যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখান যায় [২] ,

[১] এর অর্থ, মানুষ সেদিন হাশরের মাঠ থেকে তাদের আমল অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে; তাদের কেউ জান্নাতে যাবে, কেউ যাবে জাহান্নামে। [জালালাইন, মুয়াসসার, সা‘দী] এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, বিগত হাজার হাজার বছরে সমস্ত মানুষ যে যেখানে মরেছিল। সেখান থেকে অর্থাৎ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে থেকে দলে দলে চলে আসতে থাকবে। যেমন অন্যত্র বলা হয়েছে, “যে দিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তোমরা দলে দলে এসে যাবে। [সূরা আন-নাবা: ১৮] [ফাতহুল কাদীর]

[২] অর্থাৎ তাদের আমল তাদেরকে দেখানো হবে। প্রত্যেকে দুনিয়ায় কি কাজ করে এসেছে তা তাকে বলা হবে। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে একথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কাফের মুমিন, সৎকর্মশীল ও ফাসেক, আল্লাহ্‌র হুকুমের অনুগত ও নাফরমান সবাইকে অবশ্যি তাদের আমলনামা দেয়া হবে। [দেখুন, সূরা আল-হাক্কার ১৯ ও ২৫, সূরা আল-ইনশিকাকের ৭-১০]

📖{সূরা যিলযাল আয়াত নং-7}📖

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُۥ

অতএব, কেউ অণু পরিমাণ ভালকাজ করলে তা সে দেখবে,

কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে [১]।

[১] এ আয়াতে (আরবি) বলে শরীয়তসম্মত সৎকর্ম বোঝানো হয়েছে; যা ঈমানের সাথে সম্পাদিত হয়ে থাকে। কেননা, ঈমান ব্যতীত কোন সৎকর্মই আল্লাহ্‌র কাছে সৎকর্ম নয়। কুফার অবস্থায় কৃত সৎকর্ম আখেরাতে ধর্তব্য হবে না যদিও দুনিয়াতে তার প্রতিদান দেয়া হয়। তাই এ আয়াতকে এ বিষয়ের প্রমাণস্বরূপ পেশ করা হয় যে, যার মধ্যে অণু পরিমাণ ঈমান থাকবে, তাকে অবশেষে জাহান্নাম থেকে বের করে নেয়া হবে। কেননা, এ আয়াতের ওয়াদা অনুযায়ী প্রত্যেকের সৎকর্মের ফল আখেরাতে পাওয়া জরুরী। কোন সৎকর্ম না থাকলেও স্বয়ং ঈমানই একটি বিরাট সৎকর্ম বলে বিবেচিত হবে। ফলে মুমিন ব্যক্তি যতবড় গোনাহগারই হোক, চিরকাল জাহান্নামে থাকবে না। কিন্তু কাফের ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন সৎকর্ম করে থাকলে ঈমানের অভাবে তা পণ্ডশ্রম মাত্র। তাই আখেরাতে তার কোন সৎকামই থাকবে না।

📖{{সূরা যিলযাল আয়াত নং-8}}📖

وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُۥ

আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তাও সে দেখবে।

আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে [১]।

[১] প্রত্যেকটি সামান্যতম ও নগণ্যতম সৎকাজেরও একটি ওজন ও মূল্য রয়েছে এবং অনুরূপ অবস্থা অসৎকাজেরও। অসৎকাজ যত ছোটই হোক না কেন অবশ্যি তার হিসেব হবে এবং তা কোনক্রমেই উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই কোন ছোট সৎকাজকে ছোট মনে করে ত্যাগ করা উচিত নয়।

ফেসবুক থেকে নেওয়া।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments