প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অধঃপতনের কারন কি শুধুই অযোগ্যতা নাকি অদৃশ্য কোন ভয় আতংক!

৮০ ও ৯০ এর দশকে আমার মতো যারা নকল ও কপি করে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য আমাদের দিনাজপুর ছিল স্বর্গভূমি।
এখানে “খাজা বাবার মাজার” নামে ছিল কেবিএম কলেজ, চেরাডাঙ্গি স্কুল, বিরল ও সেতাবগঞ্জ,পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর সহ নানা উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ।

আশেপাশেরর বিভিন্ন জেলা শহর এমনকি সুদূর সিলেট চিটাগাং থেকে আমার মতো নকলবাজ ছাত্রদের, এস এসসি এইচ এসসি ও স্নাতক পরীক্ষায় গ্যারান্টি দিয়ে পাস করানোর শর্তে জাতীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেওয়া হতো।

বছরের পর বছর চিহ্নিত পরীক্ষাকেন্দ্র গুলোর আশে পাশে বহিরাগত ছাত্রদের পরীক্ষা কালীন সময়ে থাকা ও ব্যবহারের জন্য গড়ে উঠেছিল ছাত্র-ছাত্রী মেস ও ফটোকপি দোকান ও অস্থায়ী ইংলিশ বিজ্ঞান ও অংকের শিক্ষকদের ডেরা, যারা পরীক্ষার দিন নকল সাপ্লাই দিতো।
কি ব্যপক জনসমাগম ও বাণিজ্য হতো পরীক্ষাকে ঘিরে, তা যারা দেখেনি, তাদের লেখার অক্ষরে লিখে বুঝাতে পারা যাবে না।এক কথায় একেকটি পরীক্ষা কেন্দ্রকে একেকটি বাণিজ্য মেলা বললে ভুল হবে না।

সেই সব অনৈতিক দিনগুলো হঠাৎই থমকে যায় একজন ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও কঠোর ইচ্ছায়, শুধু দিনাজপুর নয় সারা দেশজুড়ে।

বিগত চার দলিয় জোট সরকারের কোন সাফল্য খুঁজতে গেলে, যা সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে দেখা যায়, তাহলো পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে নকল মুক্ত করা। নকলের বিরুদ্ধে যিনি শুরু করেছিলেন সত্যিকার অর্থেই জেহাদ, এবং শতভাগই সফল হয়েছিলেন তাঁর নাম
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন।
আজ উনার অবস্থা নিজ দলে এবং দলের বাহিরে করুন ও মর্মান্তিক।

শুনতে অনেকের খারাপ লাগলেও, নকলমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে জনাব মিলনের অবদান অনস্বীকার্য।
যদিও উনার বিরুদ্ধে যথেচ্ছ সরকারি হেলিকপ্টার ব্যবহারের অভিযোগ সহ বেশ কিছু অভিযোগ ছিল জনশ্রুতি হিসাবে, কিন্তুু উনার উপর শিক্ষাব্যবস্থার যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তা তিনি সঠিক ভাবেই পালন করেছিলেন।

জানিনা, শিক্ষাব্যবস্থার একটি দিক উন্নতি করার কারনেই কি, প্রাক্তন মন্ত্রী মিলনকে নিজ দল স্থানীয় নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় ভাবে জেল মামলা ও নিগৃহীত হতে হয়েছে কি না?
যদি এমনই ষড়যন্ত্রকারীরা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথ জড়িত থাকে, তাহলে ভয়ে কিংবা অযোগ্যতায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী যেটুকু সার্ভিস দিচ্ছেন তার বেশি আশা করা যাবে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হতেই থাকবে, ছাগলে আম গাছে উঠে আম খেতেই থাকবে এবং ছোট্ট শিশু মেয়ে ওড়না জরিয়ে এই সব দৃশ্য দেখতেই থাকবে দূর থেকে।

একান্ত কিছু কথা – ওমর শরীফ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *