পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই খেয়ে ফেলেছে প্রভিশন

চলতি বছরের প্রথম ৬ মাস (জানুয়ারি-জুন) শেষে রাষ্ট্রায়াত্ত অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা চলে গেছে ব্যাংকটির প্রভিশন খাতে। এ বছর ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা হয়েছে ৪০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যাংকটি জানিয়েছে, কর ও আদায় অযোগ্য মন্দ ঋণ বাবদ প্রভিশন বাদ দিলে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ২৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে মোট পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ হিসেবে চলে গেছে।

৭ অক্টোবর, শেয়ার বিজ পত্রিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পরিচালন মুনাফা হলো কোনো ব্যাংকের সুদ ও সুদ ছাড়া সব খাতের মোট আয় থেকে নিয়মিত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা থাকে। পরিচালন মুনাফাই প্রকৃত মুনফা নয়। এ মুনাফা থেকে কর ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) বাদ দিয়ে যা থাকে, তাই নেট মুনাফা হিসেবে গণ্য করা হয়।

শেয়ার বিজ পত্রিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বছরের প্রথম ৬ মাসের অগ্রণী ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৪০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটিকে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ হিসেবে ব্যাংকটিকে মোট পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই প্রভিশন হিসেবে কেটে রাখতে হয়েছে। বিশাল এই অঙ্কের প্রভিশন কেটে রাখার পরে করের খাতায় শূন্য যোগ হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রও ব্যাংকের আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

অনিরীক্ষিত হিসাবে ব্যাংকটির প্রথম ৬ মাসে নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৬০ হাজার টাকা মাত্র। বাকি ৬ মাসে ব্যাংকের পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকও।
অবশ্য বিষয়টি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামছ্-উল-ইসলাম। তিনি জানান, গত বছরের চেয়ে খেলাপি হওয়া ঋণের আদায় বেশি হয়েছে। মুনাফা ধরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মকর্তারা কাজ করছেন। বছর শেষে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে এর প্রভাব পড়বে।

গত বছর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল মোট ঋণের প্রায় ২০ শতাংশের উপরে। যদিও ব্যাংকটির কর্মকর্তারা দাবি করেছেন অগ্রণীর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ শতাংশে নেমেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দেওয়া তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো আশানুরূপ ফল মেলেনি। এজন্য চলতি বছরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রণী ব্যাংককে ৮০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদায় আশানুরূপ হয়নি। গত জুন পর্যন্ত আদায়ের তথ্য নিয়েও পর্যালোচনা বৈঠকেও আদায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাল নাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকায়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ যুক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments