নেইমারের ‘অভিনয়’ মেক্সিকোর বাধা!

২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের পারফরম্যান্স দেখে অবাক হন পেলে এবং রোমারিও। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও জাত চিনিয়েছিলেন ঠিকই। প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে গোল দিয়ে নিজের সক্ষমতার জানান দেন। তবে ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বার বার পড়ে যাওয়ার জন্য চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপের সুইস অনূর্ধ্ব ১৭ দলের তৎকালীন সদস্য গ্রানিত জাকা নেইমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান।

২০১০ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের তৎকালীন কোচ দুঙ্গাকে এই তরুণ তুর্কি নেইমারকে নেয়ার জন্য চাপও দিতে থাকেন দলটির সাবেক দুই কিংবদন্তি। যদিও নেইমারকে ‘প্রতিভাবান’ বলে আখ্যায়িত করলেও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখেননি দুঙ্গা।
pran ওই বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো মূল দলের জন্য ডাক আসে। নতুন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে সেলেকাওদের জার্সিতে খেলতে দলের সঙ্গে ক্যাম্পে যোগ দেন।

১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অভিষেক হয় নেইমারের। ওই ম্যাচে খেলতে নেমে ১৮ বছর বয়সী এই তারকা গোল পান। ২-০তে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাতিন দেশটি।

২০১১ সালের ২৭ মার্চ দক্ষিণ লন্ডনের আমিরাত স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ গোলে জয় এনে দেন তৎকালীন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তসের এই ফরোয়ার্ড। পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোলটি করার সময় নেইমারকে উদ্দেশ্য করে মাঠে কলা নিক্ষেপ করা হয়।

এ ঘটনায় স্কটল্যান্ড সমর্থকদের বিপক্ষে বর্ণবাদের অভিযোগও আনেন তরুণ নেইমার। যদিও স্কটিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা করে বলে যে, নেইমারকে মাঠে থাকা সমর্থকরা অবজ্ঞা করে, কারণ তিনি ‘ইঞ্জুরির নাটক’ করেছিলেন।

ওই কলাটি নিক্ষেপকারী জার্মান ছাত্রকে মেট্রো পুলিশ আটকও করে। তিনি বলেন, আমি কোনও বর্ণবাদের মানসিকতায় কলাটি নিক্ষেপ করিনি।
আর এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে স্কটিশ সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্যে স্কটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ক্ষমা চাইতে বলে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ)। কিন্তু নেইমার ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান।

২০১৪ সালে সান্তোস ছেড়ে যোগ দেন বার্সেলোনায়। প্রায় তিন বছর পর স্প্যানিশ ক্লাবটি ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে পাড়ি জমান প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে (পিএসজি)। বনে গেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার।

চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ২০০৯ সালের পর ফের মুখোমুখি হন জাকা-নেইমার। ওই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ইউরোপের দেশটির সদস্যরা মোট ১০ বার ফাউল করেন ২৬ বছর বয়সী নেইমারকে। মাটিতে বারবার পড়ে যাবার কারণে বিশেষ নজরেও আসেন তিনি।

নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে ডি-বক্সে লুটিয়ে পড়েন নেইমার। রেফারি বাঁশি বাজালে কোস্টারিকানদের আপিলের কারণে ভিএআর প্রযুক্তিতে পেনাল্টি বাদ হয়। পরের ম্যাচেও সার্বিয়ার সঙ্গে সাইড লাইনে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবার পর বেশ কয়েকবার গড়াগড়ি খান পিএসজি ফরোয়ার্ড। কোস্টারিকা-সার্বিয়া বাধা পেরিয়ে দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঠিকই তবে মাঠে লুটিয়ে পড়ার ‘নাটক’ নিয়ে কম কথা হয়নি।

সোমববার বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে তিতের শিষ্যরা।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির থেকে নেইমারকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে মেক্সিকানরা। তবে তার পারফরম্যান্সের জন্য নয়, চিন্তার কারণ যখন তখন মাঠে পড়ে গড়াগড়ি খাওয়া নিয়ে! গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে রেফারি যদি ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন, সেক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বিপক্ষের ওপর চাপ বাড়বে।

মেক্সিকোর অধিনায়ক আন্দ্রে গুয়ারদাদো বলেছেন, নেইমারকে চোখে চোখে রাখতে হবে। কেন না তিনি ফাউল পাবার জন্য মাঠে পড়ে যাচ্ছেন। এই সব ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করারও থাকবে না। সবটাই রেফারি এবং ফিফার ওপর নির্ভর করছে।
নেইমারের ‘প্লে-অ্যাক্টিং’ নিয়ে বিশ্বজুড়েই সমালোচনার ঝড় বইছে। তাতে অবশ্য এতটুকু ভ্রুক্ষেপ নেই ব্রাজিল তারকার। প্রশ্ন উঠেছে ‘অভিনয়’ করা সত্ত্বেও সাম্বা ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কেন কার্ড দেখাচ্ছেন না রেফারি?

গুয়ারদাদো বলেছেন, কেন তাকে কার্ড দেখানো হচ্ছে না অথবা কী করা উচিত, এটা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই। এর জন্য ম্যাচ রেফারিরা, ফিফা কর্তারা রয়েছেন। হয়তো এটাই তার খেলার স্ট্র্যাটেজি।

এদিকে শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামার আগে মেক্সিকো আত্মবিশ্বাসী। যদিও শেষ ম্যাচে তারা সুইডেনের কাছে হেরেছে। তবে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে জার্মানিকে হারানো তাদেরকে বেশ আত্মবিশ্বাসী করেছে।

গুয়ারদাদো বলেছেন, বিশ্বকাপে এই প্রথমবার আমরা জার্মানিকে হারালাম। এটা যেমন ইতিহাস। তেমনই আমরা রাশিয়ায় এসেছি অন্য ইতিহাস লিখতে। আর সেটা বিশ্বকাপ জিতেই লিখবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *