নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালেন ইসি মাহবুব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু প্রস্তাবনা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু নির্বাচন কমিশন সভায় তা উপস্থাপন করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

এ জন্য তিনি অপমানিত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেনা মোতায়েন বিষয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনীর মূল্যায়ন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কীভাবে তাদের ব্যবহার করা যায়, তা ঠিক করতে হবে।

তিনি বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশীদারমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে কতিপয় প্রস্তাবনা- শিরোনামে আমি যা আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, আমাকে নির্বাচন কমিশন সভায় তা উপস্থাপন করতে দেয়া হয়নি।

অথচ গত ৮ অক্টোবর ইসি সচিবালয় থেকে ইউওনোটের মাধ্যমে আমাকে আজকের সভায় তা উপস্থাপনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আমাকে আমার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করতে বলে তা না দেয়ায় আমি আপমানিত বোধ করেছি।’

এর আগে সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কমিশন সভায় চলাকালেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেছেন এই নির্বাচন কমিশনার কমিশনার। সভা শুরুর পর ১০ মিনিটের মাথায় সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার

তবে বাকি তিন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে বৈঠক চালিয়ে যান সিইসি নূরুল হুদা। পরে বিকেলে মাহবুব তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন কোনোভাবেই আমার অধিকার খর্ব করতে পারে না, বাকস্বাধীনতা ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা আমার সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার।

এমতাবস্থায় অনন্যোপায় হয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করছি এবং প্রতিবাদ স্বরূপ কমিশন সভা বর্জন করছি।’ তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সরকারের সঙ্গে সংলাপ- এই পাঁচটি বিষয়ে কমিশন সভায় তিনি কথা বলতে চেয়েছিলেন।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে এই কমিশনারের বক্তব্য হচ্ছে- ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে নির্বাচনে অনিয়মের পথ বন্ধ হয়। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ না হলে তা গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশকে সমর্থন করে না। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশন দ্বিপক্ষীয়ভিত্তিতে আলোচনা করতে পারে।

নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নিরপেক্ষতা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ওপর নির্ভর করে। নির্বাচনের সময় সংসদ সদস্যদের নিস্ক্রিয় রাখা নির্বাচনের কমিশনের একার ওপর নির্ভর করে না। এতে সরকারের সহযোগিতার দরকার হয়।’ ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যথেষ্ট ক্ষমতা আছে।

কিন্তু ক্ষমতা প্রয়োগে সীমাদ্ধতাও আছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় কমিশন ক্ষমতা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর খুব একটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে না। ক্ষমতা প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কীভাবে আরও নিয়ন্ত্রণাধীন করা যায়, তা দেখা উচিত।’
সরকারের সঙ্গে সংলাপ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নির্বাচন কমিশনের বড় অংশীজন। সংলাপে দেখা যায়, কিছু বিষয় রাজনৈতিক বা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ আবশ্যক।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments