নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে চলে গেছে: মওদুদ

নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীনে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

৭ অক্টোবর, রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন মওদুদ আহমদ।

‘গণতন্ত্র আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট বার।

মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এসকে সিনহার সঙ্গে সরকারের মূল বিরোধ ছিল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে। উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় অপসারণ করতে পারেন। আর নিম্ন আদালত নির্বাহী বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে। আদালতের কাছে ১১৬ অনুচ্ছেদ বিষয়ে বার বার সময় নিয়েছে সরকার।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘বিচারক আছে, আইন আছে কিন্তু আইনের শাসন নাই। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সব কিছু চুরমার করে দিয়ে নিজের অতীতের সব সম্মান নষ্ট করে দিয়েছেন। গুম খুন অপহরণ এখন রেগুলার নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ব্যবসার নামে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার মাদকের গডফাদারদের কিছুই করছে না।’

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়েছে, কয়লা চুরি হয়েছে, প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কারো কোনো বিচার করা হচ্ছে না। কারণ জবাবদিহিতামূলক সরকার নাই। কারো কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে না। অজ্ঞাতনামা আসামি করে যে, কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘পুলিশকে যথেষ্ট পাওয়ার দিয়েছে সরকার। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার এগুলো করছে। তারা একা একা নির্বাচন করতে চায়৷ কাউকে নির্বাচনে ভালোভাবে কাজ করতে দেবে না। এবার সেগুলো আমরা করতে দেব না৷ দেওয়া হবে না। ধীরে ধীরে সব কিছু নিচের দিকে যাচ্ছে।’

‘মান্না ও রবের দিকে আমরা চেয়ে আছি। সরকার ক্ষমতায় গেলে অনেক কিছু করা যাবে। কিন্তু সরকারে যাওয়া কিন্তু এতটা সহজ না। পদ্মা সেতু করার পরিকল্পনা ছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে। এখন সেটি করতে বাজেট করা হয়েছে ৩১ হাজার কোটি দিয়ে। এখানে চুরি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। কিন্তু কেউ দেখছে না। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা সরকারের পরিবর্তন আনব।’

সেমিনারে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমাদের মধ্যে পারস্পারিক মিলের অভাব থাকলেও ঐক্যে ফাটল ধরবে না। সরকার জাতীয় ঐক্যকে ভয় পায় বলেই আবোল তাবোল কথা বলছে। কথায় কথায় জাতীয় ঐক্যের সমালোচনা করছে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন উদ্ধারে আমাদের সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

আপনারা পুরোপুরিভাবে মাঠে নামেন না কেন, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় বলে জানিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি, করছি। ভেবে-চিন্তে মাঠে নামতে হবে। আমরা সামনের দিনে আরও ৯টি প্রোগ্রাম করব।’

আইনজীবীদের উদ্দেশে মান্না বলেন, ‘আপনারা এলাকায় গিয়ে সাধারণ জনগণকে বুঝান। কাজে নেমে পড়ুন।’

সেমিনারে আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘বিচারপতি এসকে সিনহার বিতাড়ন জাতিকে একটি সংকটে ফেলেছে। যে দেশে প্রদান বিচারপতি বিচার পায় না, সে দেশে খালেদা, তারেক ও আমরা কেউই বিচার পাব না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হতো না। আমাদের লড়াই করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বিনির্মাণের জন্য।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments