,

‘দুর্নীতিতে আফগানিস্তান প্রথম, বাংলাদেশ দ্বিতীয়’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান। বাকি দেশগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধে আমাদের চেয়ে এগিয়ে।’

‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেই মানববন্ধনে ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা জানান ।

দেশের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আমরা এখনো ব্যর্থ। যারা ব্যাংক লুট, উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজ, তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার দৃষ্টান্ত নেই। এদের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

এ সময় টিআইবির এই নির্বাহী প্রধান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ছাড়া মানববন্ধনের বক্তারা বলেন, বিশ্বের ৬৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে।

এদিকে, আজকের মানববন্ধনে দুর্নীতি প্রতিরোধে ১০ দফা সুপারিশ করে টিআইবি।

সুপারিশগুলো হলো আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা; নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমাতে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ করা; সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করা; ঋণ খেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পেশাদারি উৎকর্ষ ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও পরিপূরক কৌশল গ্রহণ করা; সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করা; তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করা; আইনের বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তথ্য প্রকাশকারী এবং তথ্যের আবেদনকারী উভয় ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; সবশেষে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


     এই ধরনের আরো...