দীর্ঘসময়ের জন্য খাবার সংরক্ষণের কৌশল

একটা সময় ছিল যখন মানুষ দিনের খাবার দিনে জোগার করতো। অর্থাৎ মানুষ এবং প্রাণীজগতের নিয়মই ছিল আজ দিনের খাবারটা কীভাবে জোগার করবো বা কি খাবো। পরে আসতে আসতে মানুষ যখন একসাথে বেশি খাবার জোগার করতে পারতো যখন তা ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিন। আস্তে আস্তে খাবার সংরক্ষণের প্রবণতা মানুষের মাঝে বৃদ্ধি পেতে লাগলো। তারপর দেখা গেলো শুধু মানুষ না প্রাণীকুলে এমন অনেক প্রাণী আছে যারা ভবিষ্যতের জন্য খাবার সংরক্ষণ করে রাখে। যেমন কাঠবিড়ালী, মৌমাছি, পিঁপড়া আরো অনেক প্রাণী।

যখন ফ্রিজ ছিলনা এবং মুদির দোকান ছিলনা তখন মানুষকে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হত। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা ও প্রচুর খাদ্য এর যোগান আছে বলে আমাদেরকে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য এত কষ্ট করতে হয় না। তবে ছোট পরিবারগুলোতে মানুষ কম থাকায় খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয় বেশি। আবার বড় পরিবারগুলোতেও একসাথে বেশি খাবার কেনা হয়, কিন্তু ঠিক মতো সংরক্ষণ না করার করণে তাদের খাবারও নষ্ট হয় বেশি। আসুন আজ জেনে নেই খাবার কীভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।

লাল বা বাদামী চাল:

ঠিক ভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে অর্থাৎ আদ্রতা, তাপ ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারলে লাল চাল অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এর জন্য খাদ্যমান ভালো থাকে যেন সেই রকম একটি পাত্রে চাল রাখতে হবে যার মুখটি ভালোভাবে আটকানো যায় এবং এই পাত্রটি সূর্যের আলো থেকে দূরে ও শুকনো স্থানে রাখতে হবে।

বাদাম ও বীজ:

বিভিন্ন ধরণের বাদাম পাওয়া যায়,যেমন- কাঠ বাদাম, কাজু বাদাম,পেস্তা বাদাম,আখরোট ইত্যাদি। এদেরকে ভালোভাবে সংরক্ষণের জন্য ভালোভাবে মুখ বন্ধ করা যায় এমন একটি পাত্র লাগবে এবং ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে।

মধু:

তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে এর রঙ ও ঘনত্বের পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু এর কার্যকারিতা ঠিকই থাকবে। মধু শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য নয় এর অফুরন্ত ঔষধি গুনের কথাও আমরা জানি। তরল মধু শুকনো ও ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে যেখানে সূর্যের আলো পৌছাবে না।

পনির:

ফ্রিজের বাহিরে পনির সংরক্ষণের জন্য একে মোম দিয়ে পুরোপুরি মুড়িয়ে নিতে হবে। এভাবে রাখলে পনির এক বছর ভালো থাকবে।

মটরশুঁটি:

মুখবন্ধ ও ভালোমানের একটি পাত্রের মধ্যে সামান্য ড্রাই আইস দিয়ে শুকানো মটরশুঁটি রাখলে দশ বছর পর্যন্ত ভালো থাকবে। পাত্রটি শুকনো জায়গায় রাখতে হবে। শিমের বীচি ও এভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

চা ও কফি:

সাধারণত চা-কফি দুই থেকে পাঁচ বছর এমনিতেই ভালো থাকে। আরো বেশিদিন রাখার জন্য চা এর ব্যাগগুলো বায়ুশূন্য ব্যাগ বা পাত্রে রেখে ঠাণ্ডা ও অন্ধকার স্থানে রেখে দিতে হবে।

অর্গানিক জারকি:

গবাদি পশুর মাংস কে পাতলা করে কেটে শুকানোর পর লবণ দিয়ে রাখা হয় এটাকেই জারকি বলা হয়। বিদেশে প্যাকেটজাত জারকি পাওয়া যায়। আমাদের দেশে কোরবানীর মাংস ভেজে বা রোদে শুকিয়ে রাখা হয় যা অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। এছাড়াও ইলিশ মাছ লবণ দিয়ে রাখা হয় যেটা নোনা ইলিশ নামে পরিচিত এবং জনপ্রিয়। প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য এই জারকি সংরক্ষণ করতে একে বায়ুশূন্য প্যাকেটে ভরে ঠাণ্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *