লাইফ-স্টাইল

ডায়েট সম্পর্কিত যে ৫টি গুজব কখনোই বিশ্বাস করবেন না

আজকাল লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন, হেলথ ব্লগ বা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত টিভি চ্যানেল খুললেই একগাদা ডায়েট টিপস পাওয়া যায়। ডায়েট মানে হলো স্বাস্থ্যসম্পর্কিত বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পরিকল্পিত একটি খাদ্যাভ্যাস।

অথচ প্রায়ই আমরা ভুলভাবে ‘ডায়েট’ শব্দটিকে ওজন কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করি; যেখানে লোকে বিশেষ খাবার খাওয়া একেবারেই বাদ দিয়ে দেন বা কমিয়ে আনেন। কিন্তু বাস্তব হলো ডায়েট নানা উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন, ওজন কমানো, ওজন বাড়ানো, মাংসপেশি তৈরি করা, বডি টোন করা, রোগের চিকিৎসা করা, অসুস্থতা প্রতিরোধ করা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং আরো নানা উদ্দেশ্য।
এমনকি আপনি যদি কোনো স্বাস্থ্যগত উদ্দেশ্য হাসিল নাও করতে চান এবং স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের অধিকারী হন তাহলেও শুধু স্বাভাবিক স্বাস্থ্যটুকু বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ করার জন্যও নিয়ন্ত্রিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডায়েট অনুসরণ করতে পারেন। কারণ আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। আর ভিটামিন, খনিজ পুষ্টি, চর্বি, প্রোটিন, আঁশ, কার্বোহাইড্রেটস প্রভৃতি আপনার প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ মতো থাকতে হবে। কেননা মাত্র একটি পুষ্টি উপাদানও যদি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের খাদ্য তালিকায় না থাকে তাহলে সেই পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিবে এবং গুরুতর কোনো রোগ বালাই হবে। যেমন আপনি যদি মাংস, দুধ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার না খান তাহলে আপনার মাংস-পেশিতে ক্ষয় দেখা দিবে।

সুতরাং যদি আপনি সুস্থ থাকতে চান তাহলে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত কিছু বিষয় জেনে রাখা খুবই জরুরি।

দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যাভ্যাসের সামান্য ত্রুটিও মারাত্মক ক্ষতিকর ফল বয়ে আনতে পারে। অতএব, এখানে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত এমন কয়েকটি মিথ বা গুজব নিয়ে বলা হলো যেগুলো কখনোই বিশ্বাস করবেন না।
১. সুপার ফুড বা উৎকৃষ্ট খাদ্য ব্যয়বহুল
আমাদের অনেকেই বিশ্বাস করি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী সুপার ফুড বা উৎকৃষ্ট খাদ্যগুলো বুঝি খুবই ব্যয়বহুল। এবং সেসব বিশেষ কিছু দোকানেই শুধু পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতাটা ভিন্ন। এমনকি সবজি এবং ফলও উৎকৃষ্ট হতে পারে। যদি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় উপকারী উপাদানগুলো থাকে!

২. শুধু সবজিভোজী হলে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দেবে
আমাদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, মাছ, মাংস খাওয়া বাদ দিয়ে শুধু সবজিভোজী হয়ে গেলে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ছোলা, মটরশুটি ও কলাই জাতীয় খাদ্য, স্পিনাক এবং ডালজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে।

৩. চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া
আপনার যদি ডায়াবেটিস না হয়ে থাকে তাহলে আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর এবং অপ্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবার রাখাটাই উত্তম হবে। এতে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা বা স্বাস্থ্য ভালো রাখার লক্ষ-উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ব্যাহত হবে না।

৪. কার্বোহাইড্রেটস ছুয়েও দেখবেন না
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি কমন মিথ। যারা ওজন কমাতে চান তাদেরকে প্রায়ই পরামর্শ দেওয়া হয় কার্বোহাইড্রেটস খাওয়া পুরোপুরি বাদ দিয়ে দিতে। কিন্তু বাস্তব হলো দেহকে সুস্থ এবং কর্মক্ষম রাখতে কার্বোহাইড্রেটস খুবই জরুরি। সুতরাং ব্রাউন ব্রেড এবং ব্রাউন রাইস এর মতো কার্বোহাইড্রেটস খাওয়া যেতে পারে।

৫. তারকাদের ডায়েট আপনার জন্যও প্রযোজ্য
প্রতিটি ব্যক্তির দেহ, স্বাস্থ্য ইতিহাস এবং বিপাকীয় রেট ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং কোনো একজনের জন্য কার্যকর বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অন্য জনের জন্য কাজে নাও লাগতে পারে। সুতরাং কোনো পেশাদার স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে বা নিজের স্বাস্থ্যের চাহিদা অনুযায়ী আপনার ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করুন। সূত্র : এনডিটিভি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *