,

চোখ ঘোরালেই শুধু সবুজ আর সবুজ

দেশের বিখ্যাত পর্যটননগরী হলো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শহরের চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাহাড় আর উঁচু টিলার তো শেষ নেই। চোখ ঘোরালেই শুধু সবুজ আর সবুজ। শহরের বেশির ভাগটা জুড়েই রয়েছে চা-বাগান। দেশে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবন, বান্দরবনে ঘুরেছেন। কিন্তু ভ্রমণ করেননি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক লীলাভূমি শ্রীমঙ্গল।

এখানে আপনি যে দিকে তাকাবেন দুচোখজুড়ে দেখবেন চায়ের বাগান, যা দেখলে চোখজুড়ে খেলে যাবে এক অপরূপ সুন্দর ও সবুজের সমারোহ। তাই হয়তোবা ভাবছেন কীভাবে যাবেন শ্রীমঙ্গলে!

বাংলাদেশে চা-বাগান মানেই শ্রীমঙ্গল। সাধারণত মে মাস থেকে চাপাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। এ সময় বাগানও থাকে সবুজ-সতেজ আর কর্মচঞ্চল।

‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দেখে শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ভ্রমণ শুরু করতে পারেন। বাগানে চা পাতা তুলছে এক তরুণী শ্রমিক। এই আদলে তৈরি সাদা ভাস্কর্যটি শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথেই দৃষ্টি কেড়ে নেবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন দৃষ্টিনন্দন এ ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহযোগিতায় ‘চা-কন্যা’র সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সাতগাঁও চা-বাগান।

‘চা-কন্যা’ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরের দূরত্ব বেশি নয়। ছোট্ট শহরকে পিছু ফেলে ভানুগাছ সড়কে উঠলেই চোখে পড়বে ফিনলের চা-বাগান।

চা গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিটিআরআই) ভেতর থেকে দক্ষিণমুখী সড়কটি ধরে এগিয়ে গেলে ফিনলের চা-বাগান, এ ছাড়া আছে বিটিআরআই’র নিজস্ব বাগান। ভানুগাছ সড়কের টি-রিসোর্ট ফেলে সামনে দুটি বাঁক ঘুরে হাতের ডানের সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার গেলেই জেরিন টি-এস্টেট।

লাউয়াছড়ার আগে হাতের ডানে জঙ্গলঘেরা পথটি চলে গেছে নূরজাহান টি-এস্টেটের দিকে। এ পথে দেখা মিলবে আরও বেশকিছু বাগান। শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। পথের মধ্যেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। কমলগঞ্জ থেকে আরও পাঁচ কিলোমিটার গেলে পাহাড়ঘেরা চা-বাগানের মধ্যে বিশাল মাধবপুর লেক।

তবে চা-বাগান দেখতে দেখতেও মাধবপুর যাওয়া যায়। এর জন্য ধরতে হবে নূরজাহান টি-এস্টেটের পথ। বাহন হিসেবে অবশ্যই নিতে হবে জিপ। এখান থেকেও চা-বাগান দেখতে দেখতে ভিন্নপথে ফিরতে পারেন। ধলাই সীমান্ত থেকে ফিরতি পথে সামান্য এগিয়ে হাতের বামে বেশ পুরনো চা-বাগানের বাংলোর পাশ ঘেঁষা রাস্তা ধরে চললে, চা-বাগানের বাঁকে বাঁকে ফেরা যাবে শ্রীমঙ্গল শহরে।

শ্রীমঙ্গলে এসে যা দেখতে পারবেন সবুজ চায়ের বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বধ্যভূমি-৭১, ডিস্ট্রেন সিমেট্রি, ভাড়াউড়া লেক, মিনি চিড়িয়াখানা, বিটিআরআই চা গবেষণা কেন্দ্র, হাইল হাওর, বাইক্কা বিলসহ আরও ভ্রমণোপযোগী বিভিন্ন স্থান। থাকার জন্য গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কটেজ, রেস্ট হাউস ও পাঁচ তারকা মানের হোটেল। তাই মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সবাই যার যার রুচিসম্মত আবাসিক স্থানে ভ্রমণ শেষে বিশ্রাম নিতে পারবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন


     এই ধরনের আরো...