চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দেশে প্রথম বারের মত স্হাপিত হচ্ছে এয়ার ডিফেন্স মিশাইল সিস্টেম!!

বর্তমানে আলোচিত আলোচিত বিষয় হলো চিকুনগুনিয়া। সরকার যদি চিকুনগুনিয়াকে ‘মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধী প্রকল্প হাতে নেয় তাহলে আমাদের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, আসুন তা একটু জেনে নিই:
১। চিকুনগুণিয়া ভাইরাস বাহক মশার উপদ্রব কে আপাতকালীন জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।এই দুর্যোগ মোকাবেলার করার জন্য জয় মামাকে প্রধান করে একটি ডিজিটাল প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। এর নাম দেয়া হবে ‘জয় মামা চিকুনগুনিয়া ডিজিটাল ঠেলা সামলা’ প্রকল্প।
২। প্রথমবস্থায়, এডিস ইজিপ্টাই অথবা এডিস অ্যালবুপিক্টাস প্রজাতির কামড়ে আক্রান্ত রুগীদের ব্যবহার উপযোগী একটি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে ছেড়ে দেয়া হবে। ফেসবুকের আদলে তৈরী করা হবে বিধায় এর নাম হবে ‘চিকুনফেস’। এতে চিকুনগুণিয়া আক্রান্ত রুগীরা আগ্রহ না দেখালেও পকেট কমিটির লোকেরা নিজেদের রুগী হিসেবে দাবী করে হাজার হাজার ভূয়া একাউন্ট/আইডি খুলবেন।
৩। এই সমস্ত পকেট কমিটির লোকেরা ‘আমরা চিকুয়াগুনিয়া আক্রান্ত বাংলাদেশী’ এই নামের একটি চিকুনফেস ফ্রেম প্রোফাইল পিকচারে এড করবে। যারা আক্রান্ত না তারা ‘আমরা চিকুনগুনিয়া মুক্ত বাংলাদেশী’ এই নামের আরেকটি পাল্টা ফ্রেম প্রোফাইল পিকচারে এ্যাড করে পাল্টা জবাব দিবে।
৪। জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সড়িয়ে প্রকল্পের প্রধান কাজ হবে বিদেশে থেকে ‘মশা শনাক্ত করণ রাডার এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ ক্রয় করা। রাডার এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ের জন্য পত্রিকায় দরপত্র আহ্ববান করে দেশী এবং আন্তর্জাতিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কিছু উর্দ্ধতন ব্যক্তি একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম মুখে নিয়ে ফিসফাস শব্দ করবেন।
৫। এই ফিসফাস শব্দ শুনে একটি আর্ন্তজার্তিক সুদখোড় সংস্থা ক্রয়ের পূর্বেই দূর্ণীতির অভিযোগ এনে পূর্বের প্রতিশ্রুতিকৃত অর্থের যোগান বন্ধ করে দিবে।
৬। সরকার বেকায়দায় পড়বে, ফলে লন্ডনে তারেক মামা আর আমেরিকায় ইউনুস দাদা বড় বড় লেকচার দিবেন। সেগুলো প্রথম আলু এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে হাইলাইট করে প্রচার করা হবে। তাদের জবাব দিতে সরকারও বসে থাকবেনা, সরকার এই ফিসফাসের গুজব ছড়ানোর জন্য তাদের কে দায়ী করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করবে।

৭। সহযোগী দাতা এবং দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়ার কারণে সরকার বিকল্প ভাবতে থাকবে। চীন দু’হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবে। সরকার আশার আলো দেখতে পেয়ে নিজস্ব তহবিল দিয়ে মশা সনাক্তকরণ রাডার এবং এয়ার ডিফেন্স মিশাইল ক্রয়ের কাজে এগিয়ে নিবে।
৮। রাডায় এবং এয়ার ডিফেন্স মিশাইল ক্রয়ের প্রাক্কালিত যে ব্যয় ধরা হবে ক্রয় করতে গিয়ে খরচ পড়বে এর কয়েকগুণ। ফলে প্রকল্পের ব্যয় এবং লক্ষ্যমাত্রা কয়েকবার নির্ধারণ করা হবে। এতে অর্থনীতে মারাত্মক ধাক্কা খাবে। সরকার বাধ্য হয়ে নানা অজুহাতে নতুন নতুন জিনিষের উপর ভ্যাট আরোপ করবে।
৯। ক্রয় পর্ব শেষ করার পর মহান সংসদে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব উত্থাপন করা। আলোচনার এক পর্যায়ে একশ কোটি টাকার যন্ত্র চারশ কোটি টাকা দিয়ে কিনলেও অর্থ মন্ত্রী দাঁত কেলিয়ে বলবেন, চারশ কোটি টাকা কিছুই না।
১০। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলবেন, চিকুনগুণিয়া মহামারী আকার ধারণ না করতেই সরকার আগে বাগে ডিজিটাল পদক্ষেপ নিয়েছে। যা সরকারের ইসতেহারের উল্লেখ ছিল।

১১। জেনারেল এরশাদ মহান সংসদে দাড়িয়ে বলবেন, এ দ্বারা আমাদের চলাফেরা ট্রাকিং করা হবে। আমরা চাইলেও যেখানে সেখানে যেতে পারব না। তাই এর উপর আপাতত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা যাচ্ছে না।

১৩। ডিফেন্স সিস্টেম মিশাইলের একটি ব্যাটারীর লক্ষবস্তু নয়াপল্টনের দিকে তাক করা হবে। সেটি জানতে পেরে মির্জা ফখরুল বলবেন; এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপনের নামে সরকার বিরোধী দল দমনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই।
১৪। এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন যখন উত্তপ্ত থাকবে তখন কেকা আপা টিভিতে এক রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানে দেখাবেন, কিভাবে নুডলুসের রেসিপি দিয়ে চিকুনগুণিয়া সাড়ানো যায়।
১৫। কিছুদিন পর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কে ফাঁকি দিয়ে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির মশা মানুষ কামড়াতে থাকবে, তখন তাদের উদ্ধার করতে পীর বা ফকির পানি পড়া নিয়ে এগিয়ে আসবেন। গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ তা নেয়ার জন্য লাইন ধরবে। এর জন্য সরকার বিরোধী দল কে দায়ী করবে।
১৬। সেই সময় গর্তে মুখ লুকিয়ে থাকা বিশেষ+অজ্ঞ ডাক্তারা হাজির হবেন, তারা বলবেন, হুজুরের এই পানি দ্বারা চিকুনগুনিয়া সাড়ানো অসম্ভব! পানি বিশুদ্ধ না হলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে গ্রামের যে সমস্ত টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক, লৌহ, লেড প্রভূতি বিষাক্ত দ্রব্য মিশে থাকে। তাই পানি পড়া পান না করার জন্য সাধারণ জনগণ কে অনুরোধ করছি।
১৭. বেসরকারী টেলিভিশনে এ বিষয়ের উপর টক…শো চলতে থাকবে, এক পক্ষ সরকারের সাফাই গাইতে গাইতে মুখ দিয়ে ফেনা তুলবে আর আরেক পক্ষ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্রয়ের দুর্ণীতির কথা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে যাবে।
ফলাফলঃ এতে জনগণের দুই আনা হলো কি হলো না সেটা বড় কথা নয়, লাভ যা হলো তার অধিকাংশ ঘরে তুলবে সরকার, বিরোধী দল, মিডিয়া, সু-চীল আর বিশেষ+অজ্ঞ ডাক্তার এবং পানি পড়া পীর ফকিরের দল।
@ফান পোষ্ট।।।

 

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *