চলে গেলেন ‘প্লেবয়’ এর প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনার

চলে গেলেন প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা হিউ হেফনার। অসংখ্য মানুষ আছেন যারা প্লেবয় ম্যাগাজিন চেনেন, কিন্তু হিউ হেফনারকে চেনেন না।
লস অ্যাঞ্জেলসের বিখ্যাত প্লেবয় ম্যানশনে ৯১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এক বিবৃতিতে ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতকাল বুধবার তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন।
স্পর্শকাতর শহুরে ঘরানার জীবনযাপন আর অসম্ভব মেধাবী মার্কেটিং পলিসি দিয়ে এই প্লেবয় সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৬০ এর দশকে যৌনবিপ্লব ঘটানোর পেছনে আইকন হয়ে উঠেছিলেন হফনার। ব্যাপক চাতুর্যপূর্ণ কৌশলে তিনি যৌন উদ্দীপন ম্যাগাজিনের মাধ্যমে বিশাল পাঠকসমাজ পেয়েছিলেন।

১৯৯২ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস এক সাক্ষাৎকারে হফনারকে জিজ্ঞাসা করে, আপনি কী সৃষ্টি করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, যৌনতার প্রতি মানুষের আচরণ বদলে দিয়েছি আমি। বিয়ের আগের যৌনতার প্রতি মানুষের প্রবণতাকে নিষ্কলঙ্ক করেছি আমি। এটা আমাকে দারুণভাবে তৃপ্ত করে।

তার আয়োজন এবং ম্যাগাজিনের কারণে ভিন্ন ঘরাণার সেলিব্রিটিদের বিশাল এক রাজ্য গড়ে ওঠে।

যেখানে রয়েছে শুধুই যৌন আবেদন। অনেক বড় বড় ও জনপ্রিয় সেলিব্রিটিরা প্লেবয় ম্যাগাজিনে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

প্লেবয় এর মডেলরা ঘিরে রেখেছেন তাদের প্রিয় মানুষটিকে

লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে তিনি ‘হেফ’ নামে পরিচিত। তার জন্ম ১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল শিকাগোতে। সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগে তিনি শিকাগো স্কুলস-এ শিক্ষা অর্জন করেন। শিকাগো আর্ট ইনস্টিটিউটেও পড়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস থেকে মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন।

মনোবিজ্ঞান পড়ার কারণেই মানুষের মনের গভীরের বিশুদ্ধ অংশটা দেখতে পেতেন তিনি, এক সাক্ষাৎকারে এপি’কে জানিয়েছিলেন ২০১১ সালে।

প্লেবয় সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, প্লেবয় এর মতাদর্শ যদি আপনি একশব্দে আনেন, তবে এটাকে ‘বিশুদ্ধতা-বিরোধী’ বলা যায়। তার মতে, দেশের মানুষের মানসিকতাকে আরো আনন্দের দিকে ধাবিত করেছে তার আয়োজন। এটা কেবল যৌনতাকেন্দ্রিক নয়, বরং খেলাসুলভ আনন্দলাভের উপকরণ বলেই মনে করতেন হফনার।

শুধু ম্যাগাজিনই নয়, গড়ে তোলা হয় অনেকগুলো প্লেবয় ক্লাব। সেখানে সুন্দরী স্বল্পবসনারা ‘বানি’ সেজে অতিথিদের সেবা দেন। প্লেবয়ের আরো অনেক ব্যবসা গড়ে তোলা হয়।

১৯৭৫ এর দিকে হফনার লস অ্যাঞ্জেলসে চলে যান। ১৯৮৫ সালের দিকে ছোটখাটো একটা স্ট্রোক হয় তার। ১৯৮৯ সালে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা কিম্বার্লি কনর‍্যাডকে বিয়ে করেন। দুই সন্তানের জনক হন তিনি। অবশ্য ১৯৯৮ সালে সেই সংসার ভেঙে যায় তার। পরে আবারো বিয়ে করেন হেফনার। নিজের সাম্রাজ্যের এক সুন্দরী প্লেমটকেই বিয়ে করেছিলেন।

বাবাকে নিয়ে প্লেবয় এন্টারপ্রাইজের চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার কুপার হেফনার বলেন, আমার বাবার জীবনযাপন ছিল ভিন্ন ঘরানার আর প্রভাব ছড়ানো। তিনি মিডিয়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের সময়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পেছনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার এবং যৌন স্বাধীনতা আনায়নের পেছনে তার ভূমিকা অনবদ্য।
সূত্র : ফক্স নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *