জাতীয় 

গাড়ি পার্কিংয়ে ভাড়ায় মিলছে ব্যস্ততম সড়ক!

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম মার্কেটসহ আশপাশের এলাকাকে হকারমুক্ত ঘোষণা করেছে। গত বছর ২৭ অক্টোবর এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা।

এরপর ছুটির দিনগুলোতে ফুটপাতে হকার বসলেও অন্য দিনে তাদের উপস্থিতি থাকে নগণ্য। অফিস ছুটির পর তারা বসলেও পথচারীদের চলাচল আগের মতো বিঘ্নিত হয় না। কিন্তু চার মাস আগে বায়তুল মোকাররমের সামনের রাস্তা সাদা রং দিয়ে চিহ্নিত করে সেখানে পার্কিং জোন করেছে ডিএসসিসি। ব্যস্ততম রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে ডিএসসিসি রসিদের মাধ্যমে এখন আদায় করছে ভাড়া। বিশেষ এ পার্কিং ব্যবস্থায় যানজট লেগে ভোগান্তি বেড়েছে বিস্তর। জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ এ নয়া উদ্যোগে। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মোহাম্মদ বিলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মহানগর পুলিশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাস্তায় পরীক্ষামূলকভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ হবে বলে আমরা মনে করি। যদি এ পার্কিংয়ের ফলে যানজটের সৃষ্টি হয় তবে তা বন্ধ করা হবে। যেহেতু আমরা নিজেদের লোক দিয়ে খাস (ভাড়া) আদায় করছি সেহেতু যেকোনো সময় তা বাতিল করা সম্ভব হবে। ’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির সহকারী সম্পত্তি কর্মকর্তা সামসুল আলম বলেন, ‘সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে আমরা কিছু স্থানে অস্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা করেছি। এ কারণে যানজট হওয়ার কথা না। ’

সংশ্লিষ্টরা জানান, পথচারী ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতেই ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু এখন ফুটপাত আংশিক মুক্ত করে ব্যস্ততম রাস্তায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে রাস্তায় থাকা কারওয়ান বাজার, নিউ মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সুপারমার্কেটের পার্কিং ইজারা বাতিল করা হয়েছে। তারপর ফের ব্যস্ত সড়কে পার্কিং দেওয়ার ঘটনা প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সরেজমিন গতকাল শনিবার গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট ও বায়তুল মোকাররম এলাকা ঘুরে মিলেছে অসহনীয় চিত্র। ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় মানুষের ভিড় ছিল যথেষ্ট। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পাশাপাশি যানবাহন বাড়তে থাকে। ফুটপাতে তখন কয়েক শ হকার তাদের পণ্য সাজিয়ে বসেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের এ ভিড়ে ফুটপাতে হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। রাস্তায়ও ভ্রাম্যমাণ হকারের উপস্থিতি চলাচলকে করছিল বাধাগ্রস্ত। এরই মধ্যে দেখা গেল, প্রায় অর্ধশত গাড়িকে রাস্তায় পার্কিং করার সুযোগ দিয়ে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে রিসিটের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সোনার দোকানগুলোর সামনের রাস্তায় এ জন্য সাদা রঙের দাগ দিয়ে পার্কিং জোন তৈরি করা হয়েছে।

ডিএসসিসির ফিতা কাঁধে ঝোলানো রিপন গাজী নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সহকারী খাস আদায়কারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত চার মাস ধরে আমরা পার্কিং ব্যবস্থা করে টাকা আদায় করছি। এখানে ঘণ্টায় ১৫ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে সরকারি যানবাহন এ টোলের বাইরে রয়েছে। ’

একজন হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমাদের ছুটির দিন ছাড়া ফুটপাতে বসতে দেয় না। মানুষের চলাচলের কথা চিন্তা করে আমরা ছুটির দিন ও নির্ধারিত সময়ের বাইরে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসি না। কিন্তু সিটি করপোরেশন কয়েক মাস ধরে রাস্তা ভাড়া দিয়ে টাকা আদায় করছে। ফলে সব সময়ই যানজট লেগে থাকছে। অথচ পাশেই ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনের বেসমেন্টে পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে। ’

গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা হকারের দখলে ছিল। তারা জামাকাপড়, প্লাস্টিকসামগ্রী, পাদুকা, মৃিশল্পের মাল, পুরনো বই, প্রসাধনীসহ নানা জিনিস বিক্রি করছিলেন। সেখানে সেলাইয়ের দোকান, সেলুন, রিকশা-সাইকেল মেরামতের দোকান, ফোন সার্ভিস, তালাচাবি মেরামত, অস্থায়ী খাবার হোটেলসহ নানা আয়োজন দেখা যায়। গোলাপশাহ্ মাজার ও ওসমানী উদ্যানের দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাত ছিল পুরোপুরি হকারদের দখলে। গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটের সামনের ফুটপাতে মোবাইল, ঘড়ি, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশের ছোট ছোট দোকান। জিপিওর সামনের ফুটপাত ও জিরো পয়েন্ট থেকে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত ফুটপাত ছিল পুরোপুরি হকারদের দখলে। এ ছাড়া গোলাপশাহ মাজার থেকে গুলিস্তান ফোয়ারা পর্যন্ত উভয় পাশের রাস্তা বন্ধ করে বসেছে হকাররা। এত কিছুর মাঝে হেঁটে চলা দুষ্কর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কারপার্কিং ভবনের সামনের রাস্তায় বসা হকার মো. হৃদয় মিয়া বলেন, ‘এখানে রাস্তায় বসতে হলেও সিগন্যাল নিতে হয়। লাইনম্যান জাহাঙ্গীরকে প্রতিদিন ৭০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়, মালপত্র রাস্তায় ফেলে দেয়। ’

Sharing is caring!

Comments

comments

Related posts

Leave a Comment