,

এরশাদের স্ত্রীর নগদ অর্থ ২৬ কোটি ২০ লাখ টাকা

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রীর নগদ অর্থের পরিমাণ ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ টাকা। অন্যদিকে, এরশাদের নগদ অর্থের পরিমাণ ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা। ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) ও ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রওশন এরশাদ। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনের বিপরীতে দেওয়া হফলনামা থেকে তার সম্পদের এই হিসাব পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও শেষ সময়ে তা প্রত্যাহার করে নেন।

হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, এরশাদের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫৮ কোটি ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৮ টাকা। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় এই পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ২২ লাখ ৫৪ টাকা। বর্তমানে নগদ টাকা ছাড়াও ব্যাংকে তার জমা আছে— ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের মূল্য ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা, এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, ডিপিএস ৯ লাখ টাকা, তিনটি গাড়ির মূল্য এককোটি ৪৮ লাখ টাকা (দুটি ল্যান্ড ক্রুজার ৫৫ লাখ ও ৭৫ লাখ ৫০ হাজার, একটি নিশান কার ১৮ লাখ টাকা), ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসায় মূলধন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং জমি বিক্রির দুই কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মূল্য হলো— দুই কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বনানীতে একটি দোকান (মূল্য ৭৭ লাখ টাকা), তিনটি ফ্ল্যাট— বারিধারায় ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৭০৪২ দশমিক ৫২ বর্গফুট। ৪৯ লাখ টাকার দামের বনানীতে ১৪২৭ বর্গফুট ও ৬২ লাখ টাকা দামে গুলশানে ২১৭১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। এরশাদের স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে বারিধার ফ্ল্যাটটির তথ্য দশম সংসদের হলফনামায় ছিল। সেই হিসাবে বলা যেতে পারে, গত ৫ বছরে তিনি এই দুটি ফ্ল্যাট অর্জন করেছেন।

এদিকে, ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে এককোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৬ টাকাসহ মোট ব্যাংক লোন রয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৬৩৫ টাকা। আগেরবার ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে তার লোন ছিল— দুই কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার ৫৩৫ টাকা।

এরশাদ বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এককোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা, রাষ্ট্রীয় বিশেষ দূত হিসেবে সম্মানী ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৯৬৯ টাকা, সংসদ সদস্যের সম্মানী ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে পরিচালনা পরিষদের সম্মানী ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল এককোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৪১ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে ৬২ হাজার ৯৫০ টাকা, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র থেকে ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯২ টাকা এবং চাকরি থেকে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৯৯ টাকা।

এরশাদের হলফনামার দেওয়া তথ্য অনুসারে তার স্ত্রীর নগদ অর্থসহ মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭১৩ টাকা। এর মধ্যে নগদ ২৬ কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ২৩৩ টাকা, ব্যাংকে ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৩ টাকা, জনতা পাবলিশিং-এর শেয়ার ৫০ হাজার টাকা, এফডিআর ৩ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, সেভিং সার্টিফিকেট ৬০ লাখ টাকা, সেভিং স্কিম ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫১৭ টাকা, বিনিয়োগ ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, তিনটি গাড়ির মূল্য এককোটি ৫৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা, ১০০ ভরি সোনার মূল্য (অর্জনকালীন) একলাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক ও আসবাবপত্র দেড় লাখ টাকা। এছাড়া, এরশাদের স্ত্রীর রংপুরে ২৬৩ দশমিক ৫ ডেসিমেল ও পূর্বাচলে ৭ দশমিক কাঠা জমি, বসুন্ধরা ও গুলশানে দুটি ফ্ল্যাট এবং গুলশানে ৫ কাঠার একটি প্লট রয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


     More News Of This Category