অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস রুট কি? রুট কেন করব? রুট কিভাবে করব? রুট নিয়ে বিস্তারিত টিউন।

রুট কি? অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্স কার্নেলের উপর ভিত্তি করে বানানো একটি অপারেটিং সিস্টেম। মোবাইলের সিস্টেম ফাইল গুলো এই অপারেটিং সিস্টেম ওপেন করতে দেয় না। কারন সিস্টেম ফাইল ভুলে ডিলেট করে ফেললে মোবাইল ব্রিক হয়ে যেতে পারে অথবা মোবাইলে ভাইরাস ঢুকলে সেটা সরাসরি সিস্টেম ফোল্ডারে চলে যেতে পারে যা খুব ক্ষতিকর। অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটি নিশ্চয়তার জন্য সিস্টেম ফাইলে ঢুকতে দেয় না। রুট করার মাধ্যমে আপনি অ্যান্ড্রয়েডের সিস্টেম ফাইলে ঢুকার পার্মিশন পাবেন এবং সিস্টেম ফাইল ইচ্ছা মত চেঞ্জ করতে পারবেন। রুট কি সেটা একটা উদাহরন দিয়ে বলি। কম্পিউটারের সি ড্রাইভে সাধারনত অপারেটিং সিস্টেমের ফাইল গুলো থাকে। আমরা চাইলেই সি ড্রাইভে ঢুকে ফাইল ডিলেট অথবা ফাইল তৈরি করতে পারি। এখন কেউ ভুলে সি ড্রাইভ ডিলেট করে দিলে কম্পিউটার ক্র্যাশ করবে এবং আবার অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল দিতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড এই সি ড্রাইভে (অ্যান্ড্রয়েডে কোন ড্রাইভ নেই, বুঝার সুবিধার জন্য বললাম) ঢুকতে দেয় না। ফলে ডিভাইস অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে।

রুট কেন করব? রুট করলে ডিভাইসের সিস্টেম ফাইলে আপনি ঢুকতে পারবেন। রুটেড ডিভাইসে অনেক প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করা যায় যা নন-রুটেড ডিভাইসে কাজ করে না। ডিভাইসে কিছু অ্যাপ ইন্সটল করে দাওয়া থাকে যা অনেক সময় দরকার পরে না। এই সিস্টেম অ্যাপস গুলো কে ব্লোটওয়্যার বলে। রুটেড ডিভাইসে আপনি ব্লোটওয়্যার ডিলেট করে দিয়ে ডিভাইস স্টোরেজ বাড়াতে পারবেন। অ্যান্ড্রয়েডে কিছু অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে অটো চলতে থাকে যা র‍্যামের অনেক জায়গা দখল করে নেয়। রুটেড ডিভাইসের মাধ্যমে আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার সিলেক্টেড অ্যাপস চলা বন্ধ করতে পারবেন। এছাড়াও রুটেড ডিভাইসে আরো অনেক সুবিধা আছে। এখন আপনি কেন রুট করবেন সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু হ্যাকিং অ্যাপস চালানোর জন্য রুটেড মোবাইল ব্যবহার করি।

রুট করাটা কি ঠিক হবে? রুট করলে যেসব সুবিধা পাওয়া যায় সেগুলো যদি আপনার দরকার না হয় এবং আপনি যদি রুট ছাড়াই মোবাইল শান্তি তে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আমি পরামর্শ দিব রুট করার দরকার নাই। রুট করলে মোবাইলের ওয়ারেন্টি চলে যাবে। অর্থাৎ আপনার মোবাইলে কোন সমস্যা হলে আপনার ডিভাইসের ব্র্যান্ড কোন দায়িত্ব নিবে না। রুটেড মোবাইলে একবার ভাইরাস ঢুকে গেলে সেটা রিমোভ করা অনেক কঠিন। মোবাইল ফ্যাক্টরি রিসেট দিলেও ভাইরাস ডিলেট হয় না। কারন এসব ভাইরাস রুট ফোল্ডারে ঢুকে যায়। অনেকে মনে করেন যে অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্স বেসড অপারেটিং সিস্টেম বলে এটায় ভাইরাস ঢুকে না। কথাটা অনেকটাই সত্যি। কিন্তু কিছু চাইনীজ ভাইরাস আছে যা অ্যান্ড্রয়েডের সিস্টেম ফোল্ডারে ঢুকে যায় এবং ডিভাইসের কন্ট্রোল নিয়ে নেয়। কোন অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ এসব ভাইরাস ডিলেট করতে পারে না। রুটেড ডিভাইসে আপনি সিস্টেম আপডেট পাবেন না। এছাড়াও কিছু ছোট সমস্যা আছে কিন্তু সমস্যার থেকে রুট করার সুবিধা অনেক বেশি। আমার পরামর্শ হচ্ছে যদি আপনার মেইন ডিভাইসের পাশাপাশি যদি রাফ ইউসেজের জন্য অপেক্ষাকৃত কমদামি আরেকটি ডিভাইস থাকে তবে আপনি সেই ডিভাইস রুট করতে পারেন।

কিভাবে রুট করব? আগেই বলে নিচ্ছি রুট সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে করবেন। ডিভাইসের কোন ক্ষতি হলে আমি দায়ী থাকব না। আমি অনেক গুলো ডিভাইস রুট করেছি কিন্তু কোন সমস্যায় পরিনি। তবুও ডিভাইস রুট করার সময় সমস্যা হতেও পারে। তাই নিজ দায়িত্বে করবেন। আমি রুট করার ২টি উপায় বলছি। প্রথমটি কাজ না করলে ২য় উপায়ে হয়ে যাওয়ার কথা।

১. রুট করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল ডিভাইসে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে এক ক্লিকে রুট করা। আমি মনে করি কিংরুট (Kingroot) অ্যাপ রুট করার জন্য সবচেয়ে ভাল। রুট করার অ্যাপ গুলো প্লেস্টোরে পাওয়া যায় না। https://kingroot.net এই লিঙ্কে গিয়ে “Download APK for Android” এ ক্লিক করে কিংরুটের লেটেস্ট ভার্শন ডাউনলোড করতে পারবেন। অ্যাপ ইন্সটল করার পর “Root” নামের বাটন দেখতে পাবেন। রুট করার আগে আপনার ডিভাইসের চার্জ ৬০% এর উপরে থাকতে হবে। ডিভাইস একবার রিস্টার্ট দিয়ে নিন। এরপর কিংরুট ওপেন করে রুট বাটনে প্রেস করুন। ডিভাইস কয়েকবার রিস্টার্ট হতে পারে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভাগ্য ভাল থাকলে রুট হয়ে যাওয়ার কথা। ১০০% হওয়ার পর ডিভাইস রিস্টার্ট দিন। এরপর প্লেস্টোর থেকে একটি রুট চেকার অ্যাপ ডাউনলোড করে চেক করুন আপনার ডিভাইস রুটেড কিনা। রুট যে প্রথম বারেই হয়ে যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। নাও হতে পারে। প্রথমবার না হলে আবার একি উপায়ে চেষ্টা করুন। ২য় বার না হলে https://www.apkmirror.com/apk/kingroot-studio/kingroot/kingroot-4-5-0-release/kingroot-4-5-0-android-apk-download/ এই লিংকে গিয়ে কিংরুট ভার্শন ৪.৫ (Kingroot 4.5) ডাউনলোড করে নিন। কিংরূটের বিভিন্ন ভার্শন বিভিন্ন ডিভাইসে কাজ করে। তাই আরেকটি ভার্শন ট্রাই করুন। এই ভার্শন দিয়েও আগের নিয়মে রুট করার চেষ্টা করুন। তবুও না হলে ২য় পদ্ধতি ট্রাই করুন।

২. এবার আমরা পিসি (কম্পিউটার) দিয়ে রুট করার চেষ্টা করব। প্রথমে https://www.kingoapp.com এই লিংকে গিয়ে “Download for Windows” সিলেক্ট করে কিংগোরুটের পিসি ভার্শন (Kingoroot for PC) ডাউনলোড এবং ইন্সটল করুন। আপনার ডিভাইসের ডেভেলপার অপশন অন করুন। ডেভেলপার অপশন অন করার জন্য ডিভাইসের “About Phone” এ যান। এরপর “Build Number” এর উপর বারবার প্রেস করতে থাকুন। কয়েকবার প্রেস করার পর একটি মেসেজ দিবে যে ডেভেলপার অপশন অন হয়েছে। এবার ডেভেলপার অপশন থেকে USB Debugging অন করে নিন। আপনার ডিভাইসের ড্রাইভার পিসি তে ইন্সটল করে নিন। যেমন আপনি যদি স্যামসং মোবাইল ব্যবহার করেন তাহলে “Samsung USB Driver for Mobile Phones” ইন্সটল করে নিন। https://adb.clockworkmod.com এই লিংক থেকে ADB Driver পিসি তে ইন্সটল করে নিন। এরপর পিসি তে কিঙ্গোরুটের আইকনের উপর রাইট ক্লিক (ডাবল ক্লিক না) করুন। এখান থেকে “Run as Administrator” সিলেক্ট করুন। এরপর “Run” এ ক্লিক করুন। এটাই মেইন কাজ। “Run as Administrator” সিলেক্ট না করলে আপনার ডিভাইস রুট হবে না। প্রায় সবাই এই অপশন সিলেক্ট না করে ডাবল ক্লিক করে কিংগোরুট ওপেন করেন ফলে ডিভাইস রুট হয় না। কিংগোরুট ওপেন হওয়ার পর আপনার ডিভাইস টি ডাটা ক্যাবল দিয়ে পিসির সাথে কানেক্ট করুন। আগের কাজ গুলো ঠিক মত করলে কিংগোরুট সফটওয়্যারে আপনার ডিভাইসের নাম দেখাবে। এবার Root বাটনে ক্লিক করুন। আপনার ডিভাইসেও কিংগোরুট ওপেন হবে এবং রুট পার্সেন্টেজ দেখাবে। ১৫-২০ মিনিট সময় লাগবে। ১০০% হয়ে যাওয়ার পর Root Successful দেখাবে। এবার ডিভাইস রিস্টার্ট দিন। “Unfortunately SuperUser stopped” এরকম একটি মেসেজ বারবার আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার আগের মত কিংগোরুট অন করে মোবাইল পিসির সাথে কানেক্ট করে কিংগোরুটে “Root Again” ক্লিক করুন। ২-৩ মিনিটে আবার রুট হবে এবং ওই মেসেজ আর আসবে না। প্লেস্টোর থেকে একটি রুট চেকার অ্যাপ ডাউনলোড করে চেক করুন আপনার ডিভাইস রুটেড কিনা। Congratulations your device is now rooted…

২য় পদ্ধতিতে রুট অবশ্যই হওয়ার কথা। আমি একটি ডিভাইসে ২০দিন ধরে রুট করার চেষ্টা করছিলাম। ডিভাইসের কার্নেলে সিকিউরিটি দাওয়া ছিল যেটা রুট হতে দিচ্ছিল না। অনলাইনের সব One Click Root app ট্রাই করেছিলাম। তাও হয়নি। এমন কি xda-developers থেকেও কোন সলিউশান পাইনি। তারপর এই ২য় উপায়ে রুট করে ফেলি। আর আরো অনেক ডিভাইস কিংরুট দিয়েই এক ক্লিকে রুট করেছিলাম। আশা করি এই পদ্ধতি অনুসরন করে রুট করতে পারবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *